আগরতলা, ২৩ আগস্ট: গতকালকের প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে বন্যার সম্মুখীন আড়ালিয়া, চন্দ্রপুর ও বলদাখাল এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। গতকাল ভারী বর্ষণের ফলে বলদাখালসহ বিভিন্ন এলাকার নদী ও খালের জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। এর জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে একাধিক বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে মোট ১৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রাণ শিবিরগুলিতে বর্তমানে ৪১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। মোট আশ্রিতের সংখ্যা ১,৩৫২ জন।
টানা বৃষ্টির জেরে জলস্তর বাড়তে থাকায় আগরতলার চন্দ্রপুর সংলগ্ন বলদাখাল ও শ্রীলঙ্কা বস্তি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি দিয়েছে। বিস্তৃর্ণ এলাকার বাড়ি ঘরে জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে মহকুমা ও জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার এলাকায় যান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী এবং জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিরানিয়ায় মোট ৭ টি ত্রাণ শিবিরে ১২০টি পরিবারের ২৮৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে মান্দাই গার্লস স্কুলে ১২টি পরিবারের ১৪ জন, অমুল্য বিয়ে বাড়িতে ৩০টি পরিবারের ৭৫ জন, বিদ্যাচরণ আইসিডিএস কেন্দ্রে ১২টি পরিবারের ২৪ জন এবং মোহনপুর এসবি স্কুলে ৭টি পরিবারের ১৯ জন রয়েছেন। এছাড়া কাওয়াবন ধ্রুবতারা ক্লাবে ৪৫টি পরিবারের ১১২ জন, পুরাতন আগরতলা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২টি পরিবারের ৮জন এবং শ্যামসুন্দর কলোনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ১২টি পরিবারের ৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
আগরতলা সদর এলাকায় ৫টি ত্রাণ শিবিরে মোট ৮৭টি পরিবারের ৩৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। স্বামী দয়ালানন্দ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৭টি পরিবারের ১১৬ জন, হৃষিদাস কলোনি জেবি স্কুলে ৩১টি পরিবারের ১৪৭ জন, এএমসি ওয়ার্ড অফিসের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১০টি পরিবারের ২০ জন, বেণীমাধব বিদ্যাপীঠ ইএমএসবি স্কুলে ১৭টি পরিবারের ৩৯ জন এবং মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২টি পরিবারের ৮জন রয়েছেন।
তেলিয়ামুড়ায় ২ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ত্রিশাবাড়ি জেবি স্কুলে ২৮টি পরিবারের ৯৮ জন এবং খামারবাড়ি জেবি স্কুলে ২২টি পরিবারের ৭৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুই শিবির মিলিয়ে মোট ৫০টি পরিবারের ১৭৪ জন রয়েছেন।
খোয়াইয়ে ৩টি ত্রাণ শিবিরে মোট ১৫৩টি পরিবারের ৫৫৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাবলিক লাইব্রেরি ও ইনডোর জিম সংলগ্ন সীতেশ স্মৃতি কমিউনিটি হল এলাকায় ১ টি পরিবারের ৩ জন, লালছড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮২টি পরিবারের ৩৩৮ জন এবং জীবনানন্দ বিদ্যামন্দির স্কুলে ৭০টি পরিবারের ২১৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে মোট ১১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে, ১ টি বাড়ি গুরুতরভাবে এবং ১১৩টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্যায় এখনও পর্যন্ত কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর নেই। আহতের সংখ্যাও শূন্য বলে সরকারি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা স্কুল ভবনেরও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তর।


















