আগরতলা, ১৪ আগস্ট: শহরাঞ্চলে যত্রতত্র গাড়ি, মোটরসাইকেল ও স্কুটার পার্কিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিকদের আরও সচেতন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। তাঁর বক্তব্য, রাস্তার উপর নির্বিচারে যানবাহন পার্কিংয়ের ফলে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে প্রতিনিয়ত সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শহরের বহু রাস্তা এমনিতেই সংকীর্ণ। সেসব রাস্তা আরও চওড়া করার সুযোগও সীমিত। এই পরিস্থিতিতে রাস্তার পাশে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখলে কীভাবে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত সম্ভব হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, অনেকেই শুধুমাত্র নিজেদের সুবিধার কথা চিন্তা করে যেখানে-সেখানে গাড়ি রেখে দেন। এর ফলে একইসঙ্গে আরও অনেক মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বর্তমানে বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনও এগিয়ে আসছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমেও নাগরিকদের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ ধরনের সমস্যা সমাধানে তিনিও অতীতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার আবেদন-নিবেদন সত্ত্বেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এমনকি অনেক সময় দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও পার্কিং নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে অনেককেই বারবার ভাবতে হচ্ছে, কারণ গন্তব্যে গিয়ে কোথায় গাড়ি রাখা যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যেখানে পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, সেখানে অপ্রয়োজনে গাড়ি না নিয়ে সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এমন নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি রেখে সংকীর্ণ রাস্তা দখল না করার আহ্বানও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি শহরাঞ্চলে হাইড্রোলিক পার্কিং ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে কলকাতার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার বহু সরু রাস্তাতেও নিয়ম মেনে চলার কারণে যানবাহন নির্বিচারে পার্ক করা থাকে না। একমুখী যান চলাচলসহ নির্দিষ্ট ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে শহরে সুশৃঙ্খল যান চলাচলের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। ক্রমবর্ধমান পার্কিং ও যানজটের সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।



















