কলকাতা, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাস্তরের পাঠ্যক্রমে কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে ‘ক্ষুদিরাম বসু আত্মবলিদান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি, স্কুল ও উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমে কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন ও আত্মত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলে পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় হুগলির সিঙ্গুর থেকে একটি ছোট গাড়ি তৈরির প্রকল্প সরিয়ে দেওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন নিয়ে স্কুলের পাঠ্যক্রমে একটি অধ্যায় রাখা হয়েছিল। এমনকি পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট সরকারও চায়নি আমাদের ছাত্রছাত্রীরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানুক। কিন্তু নতুন সরকার চায়, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা দেশের কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানুক।”
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবার থেকে প্রতি বছর ‘ক্ষুদিরাম বসু আত্মবলিদান দিবস’ পালন করা হবে। ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশ শাসকরা মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্ষুদিরাম বসুকে ফাঁসি দিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতদিন ক্ষুদিরাম বসু পাঠ্যক্রমের মাত্র চারটি লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন। এটা চলতে পারে না। তাঁর ইতিহাস স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি শিক্ষা দফতরের কাছে এই বিষয়ে আবেদন করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রচেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক বাড়ি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাড়িটির সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের স্কুলের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছিলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যে নতুন স্কুল পাঠ্যক্রম কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করেছে পাঠ্যক্রম কমিটি। তাঁর কথায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বর্তমান পাঠ্যপুস্তকই বহাল থাকবে এবং সেগুলির পর্যালোচনা করা হবে। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।



















