বেঙ্গালুরু, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শুধু দেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের মানুষের কাজে লাগবে এমন সমাধান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ভারতের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। তিনি বলেন, ভারতের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তাই তরুণদের শক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সমাধান তৈরির বড় সুযোগ রয়েছে।
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স -এ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোশী বলেন, “আমাদের কাজ করতে হবে, উদ্ভাবন করতে হবে এবং শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও সমাধান দিতে হবে। ভারতে উদ্ভাবন করুন, ভারতে তৈরি করুন, শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও।”
তরুণদের কৌতূহল ও দক্ষতাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, কৌতূহলকে সুযোগ দিতে হবে, সেই সুযোগকে কাজে রূপান্তরিত করতে হবে এবং সেই কাজ দেশের ও বিশ্বের সাধারণ মানুষের উপকারে আসতে হবে। এটাই ‘সেবা’-র মূল উদ্দেশ্য।
প্রহ্লাদ যোশী জানান, ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর লক্ষ্য হল পড়ুয়া ও তরুণ উদ্ভাবকদের নিজেদের চারপাশের সমস্যা চিহ্নিত করে তার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করা। স্কুল, আইটিআই, পলিটেকনিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ভাবনের শুরু হওয়া উচিত মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন বোঝার মাধ্যমে এবং শেষ পর্যন্ত সেই উদ্ভাবনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো উচিত। জল অপচয়, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও যানজটের মতো সমস্যার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ প্রায়ই এসব সমস্যা দেখতে পান, কিন্তু সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন না। তাই প্রথমে সমস্যাকে চিহ্নিত করতে হবে এবং তারপর তার সমাধান বের করতে হবে।
চ্যালেঞ্জে নির্বাচিত সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলিকে শুধু প্রোটোটাইপ তৈরির পর্যায়ে রেখে দেওয়া হবে না বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মেন্টরশিপ, ইনকিউবেশন এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সেই উদ্ভাবন গ্রহণের সুযোগের মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়েও সহায়তা দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে।
নবায়নযোগ্য শক্তি ও গ্রিন হাইড্রোজেনের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও তরুণ উদ্ভাবকদের কাজ করার আহ্বান জানান যোশী। তিনি বলেন, আইআইএসসির গবেষকরা কৃষিজ বর্জ্য ও জৈব পদার্থ থেকে ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রযুক্তি তৈরি করেছেন।
সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি সংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল রাখার জন্য দেশীয় প্রযুক্তি ও সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় নোডাল ইনস্টিটিউট হিসেবে আইআইএসসি কাজ করবে বলেও জানান তিনি। কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও মেন্টরশিপের সমন্বয় করবে আইআইএসসি।
তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্দেশে যোশীর বার্তা, তাঁদের তৈরি সমাধান যেন শুধু ভারতের মানুষের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষেরও কাজে লাগে।



















