লখনউ, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা পড়ুয়া ও যুবসমাজের আন্দোলন নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষকেই আক্রমণ করলেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী। মঙ্গলবার তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের সমস্যার কথা নিজেরাই তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির ‘হাতের পুতুল’ না হওয়ার পরামর্শ দেন।
লখনউয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মায়াবতী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে সরকার ও বিরোধী দলগুলি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ছাত্র আন্দোলনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বিজেপি, কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলি বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এর ফলে জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পিছনে চলে যাচ্ছে। এমনকি প্রকৃত সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কোনও ‘বোঝাপড়া’ থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
জেন জি-এর সমস্যাগুলি তুলে ধরে বিএসপি প্রধান বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণরা উদ্বিগ্ন। রাজনৈতিক দলগুলির উচিত এই সমস্যাগুলির দিকে নজর দেওয়া এবং সমাধানের চেষ্টা করা। যুবসমাজের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মায়াবতী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগীরা সেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল।
তবে পড়ুয়া ও যুবসমাজের দাবিগুলি যে যথার্থ এবং গুরুতর, তা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিএসপি সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের দাবি তুলে যেতে পড়ুয়া ও তরুণদের উৎসাহিত করেন মায়াবতী। একইসঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের ‘ঘুঁটি’ হয়ে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেন তিনি।
রাঁচিতে চলা পড়ুয়া-যুব আন্দোলন নিয়েও মন্তব্য করেন বিএসপি প্রধান। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা প্রকাশ্যে পড়ুয়াদের দাবির পাশে দাঁড়াচ্ছে না, অন্যদিকে বিজেপি ও তাদের সমর্থকরা আন্দোলনকে সমর্থন করছে। দিল্লি এবং রাঁচি—দুই ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের সমস্যার উপর রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মায়াবতী বলেন, শাসক এবং বিরোধী—উভয় পক্ষেরই উচিত যুবসমাজের সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেগুলির সমাধান করা।
সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের সুবিধাও ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সংরক্ষণের প্রভাব দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারি ক্ষেত্রকে দুর্বল করে বেসরকারি ক্ষেত্রের উপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন বিএসপি প্রধান। এর ফলে বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি আরও শক্তিশালী হচ্ছে, অথচ দরিদ্র, বেকার ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ পিছিয়ে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএসপির অবস্থান স্পষ্ট করে মায়াবতী বলেন, তাঁর দল বেসরকারি ক্ষেত্রের বিরোধী নয়। তবে সরকারি চাকরিতে যে ধরনের সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, সেই আদলে বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানে সংরক্ষণের পক্ষে বিএসপি।
নিজের মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মায়াবতী দাবি করেন, তাঁর সরকারের আমলে সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা হয়েছিল। পড়ুয়াদের সমস্যা সমাধান এবং যুবসমাজের জন্য জীবিকার সুযোগ তৈরির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।



















