গুয়াহাটি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): অসমের বন্যাকবলিত পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে আগামী ৯ আগস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার শিবসাগর জেলার একটি ত্রাণশিবিরে গিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত প্রতিটি পরিবারের কাছে ত্রাণ ও সরকারি সহায়তা পৌঁছেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৯ আগস্ট থেকে সরকারি দল ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করবে, যাতে স্বচ্ছ ও দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, “অসমের প্রতিটি বন্যাদুর্গত পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই, এই কঠিন সময়ে সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। পুনর্বাসন থেকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”
ত্রাণশিবিরে মুখ্যমন্ত্রী খাদ্য, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নেন এবং জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যালোচনা করেন।
এদিকে, অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত বন্যায় ২৫টি জেলার ১১,৪৫,১০৯ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এই সময়ে ৭৭টি রাজস্ব চক্র এবং ২,২৮১টি গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে। বন্যাজনিত ঘটনায় মোট ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগরে, এছাড়া চরাইদেওতে ২১, যোরহাটে ৯, ধেমাজিতে ৩, গোলাঘাটে ৩, কার্বি আংলংয়ে ২, সোনিতপুরে ১ এবং কামরূপে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন শিবসাগর এবং একজন ধেমাজি জেলার বাসিন্দা।
বর্তমানে ২২৪টি ত্রাণশিবিরে ৭৩,০৭৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ১,৮৪৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২৯,৯৮৫ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বন্যায় ৩,৭৭১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১২,৯৮৭টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এএসডিএমএ।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও এখন সরকারের প্রধান গুরুত্ব পুনর্বাসনের উপর। তিনি বলেন, “ত্রাণ কার্যক্রম চলছে এবং পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজও চলছে। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার জল নামতে শুরু করায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
তবে উজানের এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে কিছু নদীর জলস্তর আবারও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। (আইএএনএস)
























