গুয়াহাটি, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সোমবার তিনি জানান, রাজ্যের বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চারটি জেলার প্রায় ৭৫ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা হিসেবে ১৫ হাজার টাকা করে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এতে কোনও বিলম্ব ছাড়াই উপভোক্তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আজ সকালে চারটি জেলার প্রায় ৭৫ হাজার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুত ১৫ হাজার টাকা করে অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার আওতায় যোগ্য উপভোক্তাদের জন্য রাজ্য সরকারের ভর্তুকিও প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে দ্রুত নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া, যাতে তারা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারেন এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে পারেন। চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষাও চালানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে যাঁরা দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের পাশে রাজ্য সরকার দৃঢ়ভাবে রয়েছে।”
এদিকে, অসমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। সরকারি হিসাবে, বন্যাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ হয়েছে। এখনও রাজ্যের ১ লক্ষ ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ১৬০টিরও বেশি গ্রাম এখনও জলমগ্ন রয়েছে। বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা জলের তলায় চলে গেছে।
রাজ্য সরকার এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



















