নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট (আইএএনএস): কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (ইপিএফও)-র প্রায় ১,৮১৬.২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেড, সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি, অজ্ঞাত সরকারি কর্মী এবং অন্যান্য অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)।
শনিবার সিবিআই জানায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের অধীন ইপিএফও-র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা রুজু করা হয়েছে।
সিবিআইয়ের অভিযোগ, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেড (আরসিএল) সুরক্ষিত নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চার (এনসিডি) ইস্যু করেছিল। সেই সময় ইপিএফও চারটি পোর্টফোলিও ম্যানেজারের মাধ্যমে, যার মধ্যে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডও ছিল, মোট ২,৫০০ কোটি টাকা ওই এনসিডিতে বিনিয়োগ করেছিল।
এই এনসিডিগুলির মেয়াদ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রতারণামূলক লেনদেন এবং তহবিল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর ফলে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল এনসিডি রিডেম্পশন করতে ব্যর্থ হয় এবং ইপিএফও-র ১,০০৭.৫৫ কোটি টাকার মূলধনের পাশাপাশি ৮০৮.৬৭ কোটি টাকার সুদ-সহ মোট ১,৮১৬.২২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিনিয়োগ করা অর্থের শেষ পর্যন্ত কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কেও তদন্ত করা হবে।
সিবিআই আরও জানিয়েছে, এর আগেও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং এলআইসি-র অভিযোগের ভিত্তিতে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস, রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স এবং রিলায়েন্স টেলিকমের বিরুদ্ধে সাতটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
সংস্থার দাবি, রিলায়েন্স এডিএ গোষ্ঠী-সংক্রান্ত মামলাগুলিতে ইতিমধ্যে চারটি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে এবং সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলাগুলির তদন্ত চলছে এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে বলে সিবিআই জানিয়েছে।



















