নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট (আইএএনএস): ভগওয়া (গেরুয়া), সাধুসন্ত, ভগবান রাম বা সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যের কোনও অংশের অবমাননা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং তা জঘন্য অপরাধের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন যোগগুরু বাবা রামদেব।
শুক্রবার সংসদ প্রাঙ্গণে নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদবের নেতৃত্বে অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ তুলে করা প্রতীকী বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই বিক্ষোভে বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ অংশ নেন এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন।
প্রতীকী প্রতিবাদে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ কয়েকজন সাংসদকে অনুদানের বাক্সে অর্থ রাখতে দেখা যায়। সেই সময় পাপ্পু যাদব প্রতীকীভাবে পুরোহিতের ভূমিকায় অভিনয় করে ওই অর্থ নিজের পকেটে রাখার অভিনয় করেন, যা রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে আইএএনএস-কে বাবা রামদেব বলেন, “ভগওয়া, সাধুসন্ত, ভগবান রাম কিংবা আমাদের সনাতন ঐতিহ্যের কোনও অংশকে অপমান করা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং এটি জঘন্য অপরাধ।”
নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া প্রতিবাদ এবং সেখানে অশালীন ভাষা ব্যবহারের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গালিগালাজ ভারতের সংস্কৃতি বা মূল্যবোধের অংশ নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের গালিগালাজ শেখানো নয়, দক্ষ করে তোলা উচিত। তারা যেন মাদকাসক্ত, বিপথগামী বা ধ্বংসাত্মক মানসিকতার মানুষ না হয়ে গঠনমূলক চিন্তাভাবনার অধিকারী হয়। সমস্যাকেন্দ্রিক নয়, সমাধানকেন্দ্রিক মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের যেমন জবাবদিহি করতে হবে, তেমনই নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
বাবা রামদেব আরও বলেন, কোনও আন্দোলন যদি নৈরাজ্যের রূপ নেয়, তাহলে তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
তাঁর কথায়, “যে কোনও আন্দোলন নৈরাজ্যপূর্ণ হয়ে উঠলে তা কোনও ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। বরং আন্দোলন শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই প্রতিবাদের নামে নৈরাজ্য বন্ধ হওয়া উচিত। কোনও কিছুর বিরোধিতা করতে হলে তা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখেই করা উচিত। প্রতিটি আন্দোলনের লক্ষ্য হওয়া উচিত গঠনমূলক ফল অর্জন।”
______



















