নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট (আইএএনএস): ওড়িশায় চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) কর্মসূচির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন সূচি অনুযায়ী, ভোটাররা আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন।
৩১ জুলাই জারি করা নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওড়িশার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অনুরোধের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৯ আগস্ট করা হয়েছে। একইসঙ্গে নোটিশ জারি, দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
সংশোধিত ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশ হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর।
নির্বাচন কমিশন ওড়িশা সরকারকে এই সংশোধিত সূচি রাজ্য গেজেটের বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশ করার পাশাপাশি কমিশনের নথিভুক্তির জন্য তিনটি কপি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া সংশোধিত সূচি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৪ মে দেশের ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওড়িশায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় ৫ জুলাই এবং মূল সূচি অনুযায়ী ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল।
তবে ওড়িশার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের আবেদনের ভিত্তিতে এবং নিবন্ধিত ভোটার বিধি, ১৯৬০-এর ১২ নম্বর বিধির ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন এই সময়সীমা ১৯ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ১ জুলাইকে যোগ্যতার নির্ধারিত তারিখ হিসেবে ধরা হয়েছে।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই, পূর্ব-ভর্তি ফর্ম এবং বিদ্যমান ভোটার নথির পর্যালোচনার মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হল মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, দ্বৈত এবং অ-নাগরিকদের নাম বাদ দিয়ে যোগ্য সব নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দেশব্যাপী এই বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টও এই প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রেখে জানায়, এটি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।



















