গুয়াহাটি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো এবং রাজ্যে জৈব জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে কম্প্রেসড বায়োগ্যাস (সিবিজি) নীতি, ২০২৬ অনুমোদন করেছে অসম মন্ত্রিসভা। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন নীতির মাধ্যমে কম্প্রেসড বায়োগ্যাস প্রকল্প স্থাপনের জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজে প্রকল্প গড়ে তুলতে পারেন এবং রাজ্যে টেকসই ও নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ে।
তিনি বলেন, নীতি অনুযায়ী শিল্প ও বাণিজ্য কমিশনারকে সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার নোডাল কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং সিবিজি প্রকল্পগুলি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও জানান, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পরিকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ছয়টি মূল স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে প্রণোদনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি বিস্তৃত প্যাকেজও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়া, গোলপাড়া জেলার রাখ্যাসিনী প্রস্তাবিত সংরক্ষিত বন এবং থারকো নলবাড়ি প্রস্তাবিত সংরক্ষিত বন-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন রক্ষা এবং রাজ্যের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রিসভা অসম লিগ্যাল মেট্রোলজি (সরকার অনুমোদিত টেস্ট সেন্টার) বিধি, ২০২৬-এর সংশোধনীও অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওজন ও পরিমাপের যন্ত্র প্রস্তুতকারীরা নিজেরাই সেগুলির স্বীকৃতি দিতে পারবেন। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। সরকারের দাবি, এতে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ হবে, ব্যবসার খরচ কমবে এবং ব্যবসা করার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
এছাড়া অসম প্রাণিসম্পদ ও পশুচিকিৎসা অধীনস্থ পরিষেবা (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬-ও অনুমোদিত হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করা হবে এবং পরিষেবা সংক্রান্ত নিয়মে আরও সামঞ্জস্য আনা হবে।
শুক্রবার গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পশুচিকিৎসা পরিষেবা আরও শক্তিশালী করাই এই সিদ্ধান্তগুলির মূল লক্ষ্য।



















