কাঠমান্ডু, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় মধেশ প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক হিংসার আবহে শুক্রবার মধেশভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ওই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। এখনও পর্যন্ত এই হিংসায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুনসারি জেলা থেকে শুরু হয়ে মধেশের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা প্রশমিত করা, আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মধেশে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে বিভিন্ন নেতার মতামত জানতে চান। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতারা জানান, তাঁরা তরাই অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সমস্যা সমাধানে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তরিক বলে তাঁদের মনে হয়েছে।
বৈঠকে জনমত পার্টির নেতা ড. সি. কে. রাউত, মহন্ত ঠাকুর, রাজেন্দ্র মহতো, লালবাবু রাউত, শামিম মিয়া আনসারি, রাম কে. শর্মা, প্রভু সাহ, অমরেশ কুমার সিং, শরৎ সিং ভান্ডারি, জয়কান্ত রাউত-সহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এঁদের অনেকের দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব না করলেও সংকটগ্রস্ত মধেশ অঞ্চলে তাদের যথেষ্ট জনসমর্থন রয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেতারা বলেন, এই ধরনের সংলাপ বর্তমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জনমত পার্টির প্রধান ড. সি. কে. রাউত বলেন, মধেশকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এর আগে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী মধেশ অঞ্চলের সাংসদদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে সাম্প্রতিক হিংসা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
২৬ জুলাই সুনসারি জেলার দেবাঙ্গঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভার কাপ্তানগঞ্জ এলাকায় শ্রাবণ মাসের বলবম যাত্রায় অংশ নেওয়া হিন্দু ভক্তদের ডিজে সঙ্গীত বাজানোকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে ওম প্রকাশ মেহতা নামে এক যুবকের মৃত্যু হলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সিরাহা, ধনুষার জনকপুরধাম এবং পার্সা-সহ ভারত সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় বিক্ষোভ ও হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন সিরাহা ও জনকপুরধামের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে এবং পার্সা জেলায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। শুক্রবারও এই বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দেরি করা এবং জাতির উদ্দেশে দ্রুত বার্তা না দেওয়ায় বিরোধী দলগুলির সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। চাপ বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির (আরএসপি) সভাপতি রবি লামিছানে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর বিশ্ব হিন্দু মহাসংঘ, আল সালাম সোসাইটি এবং জামিয়াত উলেমা-ই-নেপাল যৌথ বিবৃতিতে ধর্মের নামে হিংসা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানায়।



















