অমরাবতী, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার প্রকাশিত অন্ধ্রপ্রদেশের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) বিবেক যাদব জানান, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ২২.৩০ লক্ষ স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ১৫.২২ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে এবং ৭.৩৭ লক্ষ ভোটারের নাম একাধিক স্থানে নথিভুক্ত থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে।
তিনি জানান, মোট ৩.৭১ কোটি ভোটারের (৮৯.২২ শতাংশ) কাছ থেকে গণনাপত্র (এনিউমারেশন ফর্ম) সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বাকি ৪৪.৮৯ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) তাঁদের খুঁজে পাননি বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফর্ম জমা পড়েনি। এঁদের মধ্যে অনেকে অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন, কেউ অস্তিত্বহীন বলে চিহ্নিত হয়েছেন, আবার কেউ ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ফর্ম জমা দেননি বা ভোটার হিসেবে নাম রাখতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
গত ১৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হয়। ২৪ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৪,১৬,২৭,৬৯৪ জন ভোটারের মধ্যে ৩,৭১,৩৮,১৮২ জন তাঁদের গণনাপত্র জমা দিয়েছেন।
সিইও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম এখনও পুনরায় তালিকাভুক্ত করা সম্ভব। ৩১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমায় নির্ধারিত ঘোষণাপত্র-সহ ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে। একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটারদের ক্ষেত্রে কেবল একটি স্থানেই নাম বহাল থাকবে।
রাজ্যের ১৭৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) শুক্রবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন। যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা একাধিক স্থানে নাম নথিভুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য কারণ-সহ বুথভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট ইআরও/এইআরও দফতর, গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং ভোটকেন্দ্রের নোটিস বোর্ডে টাঙানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিইও এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের ওয়েবসাইটেও এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
৩১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে। ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেগুলির নিষ্পত্তি করা হবে এবং আগামী ৩ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সিইও জানান, এই প্রক্রিয়া সফল করতে ২৮ জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ১৭৫ জন ইআরও, ১,০৭৯ জন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক, ৪,৬৫০ জন বিএলও সুপারভাইজার এবং ৪৬,৩৯৭ জন বুথ লেভেল অফিসার কাজ করেছেন। পাশাপাশি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মোট ১,২৭,৮৬৮ জন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) নিয়োগ করেছে, যা এসআইআর শুরুর সময়ের ৬৮,৮৬৮ জনের তুলনায় অনেক বেশি। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



















