বেঙ্গালুরু, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের এফ-৫৭ শটপুট ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জয় করায় কর্নাটকের প্যারা অ্যাথলিট কে. এস. শিলপাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার এবং উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর।
৭.২৬ মিটার থ্রো করে শিলপা ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। তাঁর এই সাফল্যে ভারতের পদকসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই কর্নাটকেরও গৌরব বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার এক বিবৃতিতে বলেন, “২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের এফ-৫৭ শটপুটে ব্রোঞ্জ জয়ের জন্য কর্নাটকের শিলপা কে. শৈলাকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্য কর্নাটক ও সমগ্র দেশের জন্য গর্বের। তাঁর দৃঢ়তা, অধ্যবসায় এবং অদম্য মানসিকতা অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সাফল্যের জন্য লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
তিনি ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য আরও সাফল্য এনে দেওয়ার শুভকামনা জানান।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা রাজস্ব ও ক্রীড়ামন্ত্রী জি. পরমেশ্বরও শিলপার প্রশংসা করে বলেন, গেমস শুরুর আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাঁর প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস দেখে পদক জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “ওর প্রতিভা, দৃঢ়তা এবং ক্রীড়া সাফল্য সম্পর্কে জানতাম বলেই বিশ্বাস ছিল যে ও পদক জিতেই ফিরবে। সেই বিশ্বাস সত্যি হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
তিনি আরও জানান, শিলপার এই সাফল্য রাজ্যের বহু তরুণ ক্রীড়াবিদকে বাধা অতিক্রম করে খেলাধুলায় এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার তাঁর ক্রীড়াজীবনে সর্বতোভাবে পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
মহীশূর জেলার কাঞ্চিগারা কোপ্পালু গ্রামের কৃষক পরিবারে জন্ম শিলপার। মাত্র চার বছর বয়সে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি বাঁ পা হারান। কিন্তু পরিবারের সমর্থনে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে মহীশূরে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর প্যারা অ্যাথলেটিক্সে যোগ দিয়ে দ্রুত সাফল্য পান।
২০২৪ সালে থাইল্যান্ডে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রুপো ও ব্রোঞ্জ জেতেন। ২০২৫ সালে নয়াদিল্লিতে ওয়ার্ল্ড প্যারা অ্যাথলেটিক্স গ্রাঁ প্রিতে সোনা জয়ের পর চলতি বছরে দুবাইয়ে ফাজ্জা আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের যোগ্যতা অর্জন করেন।
–আইএএনএস



















