নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) পাঞ্জাবে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (বিকেআই)-কে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, রাজ্যে ফের খালিস্তানি কার্যকলাপ উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জেরে পাঞ্জাবজুড়ে বিকেআই-র বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পাঞ্জাব পুলিশ।
তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তান থেকে অর্থ পাঠিয়ে পাঞ্জাবে খালিস্তানি আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিকেআই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নতুন মডিউল গড়ে তুলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার আর্থিকভাবে দুর্বল যুবকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সংগঠনে ভিড়ানোর চেষ্টা করছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বিকেআই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুবকদের চিহ্নিত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পাকিস্তানে বসে থাকা সংগঠনের হ্যান্ডলাররা সক্রিয় তরুণদের খুঁজে বের করে অর্থের প্রলোভন দিয়ে দলে টানার চেষ্টা করছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, আদর্শগতভাবে খালিস্তান আন্দোলনের প্রতি যুবসমাজের সমর্থন কম থাকায় মতাদর্শের ভিত্তিতে সদস্য সংগ্রহে খুব বেশি সাফল্য পাচ্ছে না বিকেআই। তাই আর্থিক সমস্যায় থাকা যুবকদের টার্গেট করেই নিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দাদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, আইএসআই বিকেআই-কে পাঞ্জাবে বড় ধরনের হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। কয়েক মাস ধরেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করে আসছিল যে, রাজ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বড়সড় জঙ্গি হামলার চেষ্টা বাড়তে পারে। উদ্দেশ্য, অশান্তি সৃষ্টি করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা।
রবিবার জালন্ধরে বিকেআই-র একটি মডিউল ভেঙে দেওয়ার পর এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। ওই অভিযানে এক সন্দেহভাজন বিকেআই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে প্রায় ১.৩ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার হয়, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তাদের দাবি, অতীতে খালিস্তান আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিকেআই এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই একদিকে ছোট ছোট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে বড়সড় হামলা চালানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, গ্রেনেড হামলার মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত রাখা, যাতে পরে বড় হামলা চালানো সহজ হয়।
এক কর্মকর্তা জানান, কানাডায় খালিস্তানি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কড়াকড়ি এবং ভারত-কানাডা সম্পর্কের উন্নতির ফলে বিদেশে থাকা খালিস্তানি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সীমিত হয়েছে। এর জেরেই আইএসআই বিকেআই-র উপর আরও চাপ বাড়িয়েছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
বর্তমানে পাঞ্জাব পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, নিজেদের সক্রিয়তা প্রমাণ করতে মরিয়া বিকেআই যে কোনও সময় বড় ধরনের জঙ্গি হামলার চেষ্টা করতে পারে।



















