নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশবাসীর প্রতি ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৬তম পর্বে তিনি বলেন, প্রতিটি ভারতীয়ের উচিত জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে প্রতিটি বাড়িতে তিরঙ্গা উত্তোলন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই আমরা স্বাধীনতার মহোৎসব উদযাপন করব। ১৫ আগস্ট প্রতিটি ভারতীয়ের কাছে গর্বের দিন। এই দিনটি সেই অগণিত বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীকে স্মরণ করার দিন, যাঁরা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার কারণেই আজ আমরা হাতে তিরঙ্গা ধারণ করতে পারি। এই তিরঙ্গাই আমাদের সংবিধানের আদর্শের প্রতীক।”
গত কয়েক বছরে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান দেশজুড়ে এক জনআন্দোলনের রূপ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রায় প্রতিটি বাড়ি, পাড়া ও রাস্তায় জাতীয় পতাকার উপস্থিতি দেশপ্রেমের এক নতুন আবহ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “গত কয়েক বছরে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান সমগ্র দেশকে এক অনন্য দেশপ্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিটি রাস্তায় তিরঙ্গা উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে। এ বছরও একই উৎসাহে এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে আমাদের বাড়িতে তিরঙ্গা উত্তোলন করতে হবে।”
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশ গঠনের নানা বিষয় নিয়ে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ মাইগভ প্ল্যাটফর্মে পাঠানোর আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি দেশবাসীর মূল্যবান পরামর্শের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও ভারতরত্ন ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালাম-কেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২৭ জুলাই ড. কালামের মৃত্যুবার্ষিকী। শিক্ষক হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং দেশের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ড. কালামের ব্যক্তিত্বের বহু অনুপ্রেরণাদায়ক দিক ছিল, তবে একজন শিক্ষক হিসেবেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি শিশু ও যুবসমাজকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করতেন।”
একইসঙ্গে আসন্ন গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের সকল শিক্ষক, গুরু এবং অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রথম শিক্ষক আমাদের বাবা-মা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের জ্ঞান অর্জনের পথ দেখান। গুরু পূর্ণিমা তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি পবিত্র উপলক্ষ। দেশের সমস্ত শিক্ষক ও গুরুকে আমি আন্তরিক প্রণাম জানাই।”



















