সংযুক্ত রাষ্ট্র, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তানে, বিশেষ করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের ঘটনায় রাষ্ট্রপুঞ্জ (ইউএন) যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছে ভারত। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে এই অভিযোগ তোলেন।
‘বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পি. হরিশ বলেন, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে মানবাধিকার দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিয়মিতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্য দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রপুঞ্জ কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেই একই মনোযোগ দেখা যায় না।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানি রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।” তাঁর অভিযোগ, প্রায় আট দশক ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে কাশ্মীরিদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা দমনের একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করে আসছে ইসলামাবাদ।
পি. হরিশের দাবি, নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনকারী কাশ্মীরিদের পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন কাশ্মীরি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ১৪ জুলাই তারারখাল এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ছয়জন কাশ্মীরি নিহত হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি করা, এমনকি একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে জেলে পাঠানো এবং প্রধান বিরোধী দলকে কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখার মতো ঘটনাও গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
পি. হরিশের অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যত একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ ঘটিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে এবং শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে আজীবন ফৌজদারি বিচারের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের অবশিষ্ট কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “মনগড়া বর্ণনা তৈরি করে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা না করে নিজেদের দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলির দিকে নজর দেওয়াই পাকিস্তানের উচিত।”
একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” তাঁর মতে, জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড।
সূত্র: আইএএনএস



















