আগরতলা, ১৮ জুলাই: প্রদীপ কুমার (পিকে) চক্রবর্তীকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। তাঁর নিয়োগ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রাক্তন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ কুমারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলে দাবি করেন তাঁরা।
সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে, যাঁকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই পিকে চক্রবর্তীকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই নিয়োগের ফলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে পিকে চক্রবর্তীকে কলঙ্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক বলে অভিযোগ করা হয় এবং তাঁকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানানো হয়।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া, জয় গোবিন্দ দেবরায়, রঘুনাথ সরকার এবং সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য। তাঁরা পিকে চক্রবর্তীর অতীত প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
বামফ্রন্ট নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং পিকে চক্রবর্তীর অপসারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
























