আহমেদাবাদ, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): আষাঢ়ী বিজ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গুজরাটজুড়ে ২০০-রও বেশি জগন্নাথ রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ওড়িশার পুরীর পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জগন্নাথ রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত আহমেদাবাদের ১৪৯তম রথযাত্রাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজ্যজুড়ে ৩১ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নজরদারি, হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজরাটের ডিজিপি জি. এস. মালিক জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ২০০-র বেশি রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রতিটি যাত্রার জন্যই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, আহমেদাবাদের ১৪৯তম রথযাত্রা রাজ্যের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হয় এবং প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হচ্ছে।
আহমেদাবাদ পুরসভার কমিশনার বান্ছা নিধি পাণি জানান, শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার রথযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী পথ অতিক্রম করে রথ আবার মন্দিরে ফিরবে। যাত্রাপথে অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল, চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিন ভোরে ঐতিহাসিক জামালপুরের শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে মঙ্গলা আরতিতে অংশ নিয়ে পুজো দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রথযাত্রার সূচনার আগে এটি অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার। পরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল সোনার ঝাঁটা দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার ঐতিহ্যবাহী ‘পাহিন্দ বিধি’ সম্পন্ন করেন।
পরে এক্স-এ করা পোস্টে অমিত শাহ লেখেন, “শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রার পবিত্র উপলক্ষে আহমেদাবাদের শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে মঙ্গলা আরতিতে অংশ নিয়ে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ নিয়েছি। ভক্তি ও বিশ্বাসে ভরা এই মুহূর্ত আমাকে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক পরিতৃপ্তি দেয়। মহাপ্রভু সকলের উপর তাঁর আশীর্বাদ বর্ষণ করুন। জয় জগন্নাথ।”
রথযাত্রাকে ঘিরে শহরজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোর থেকেই হাজার হাজার ভক্ত মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। প্রথমবার রথযাত্রায় আসা এক ভক্ত জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি মহাপ্রভুর দর্শনে এসেছেন। আরেকজন বলেন, এভাবে প্রথমবার জগন্নাথদেবের দর্শন পেয়ে তিনি আপ্লুত। বহু বছর ধরে রথযাত্রায় অংশ নেওয়া এক ভক্ত জানান, তাঁরা প্রতি বছর ভোর সাড়ে তিনটা থেকেই এসে উপস্থিত হন।
এদিকে, রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া হাতিগুলির গায়ে আঁকা নান্দনিক চিত্রকলা। ২১ বছরের তরুণ শিল্পী জার্না পাঞ্চাল টানা চার বছর ধরে ‘সেবক’ হিসেবে হাতিগুলির গায়ে হাতে আঁকা নকশা এঁকে আসছেন। ফাইন আর্টসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই শিল্পী আইএএনএস-কে বলেন, কাগজে ছবি আঁকার চেয়ে হাতির গায়ে ছবি আঁকা অনেক বেশি কঠিন, কারণ তা হাতির মেজাজের উপর নির্ভর করে।
তিনি জানান, শুরুতে হাতিদের খুব ভয় পেতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এখন হাতিরা তাঁর কণ্ঠস্বরও চিনতে পারে। তাঁর আঁকায় রথ, ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা, পদ্ম, ময়ূরসহ রথযাত্রার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক স্থান পায়।
এবারের রথযাত্রায় প্রথমবার ‘গজ রক্ষক’ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ১৮টি হাতির উপর জিপিএস ট্র্যাকার, শব্দ ও নড়াচড়া শনাক্তকারী সেন্সরের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভিড়ের মধ্যে সতর্ক থাকার, শিশুদের কাছাকাছি রাখার এবং গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।



















