কোহিমা, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): নাগাল্যান্ডের চুমৌকেদিমা জেলায় আইইডি বিস্ফোরণে অসম রাইফেলসের এক হাবিলদারের মৃত্যু এবং চার জওয়ান আহত হওয়ার ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অতিরিক্ত অসম রাইফেলস ও নাগাল্যান্ড পুলিশের বাহিনী মোতায়েন করে অভিযানে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, আহত চার অসম রাইফেলস জওয়ানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত হাবিলদার মোহাম্মদ ইকবাল ২৮ অসম রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সামরিক মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তার মরদেহ নিজ রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অসম রাইফেলসের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা, সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা চুমৌকেদিমা জেলার সুখোভিতে অবস্থিত অসম রাইফেলস ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
নাগাল্যান্ড পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বা অন্য কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে চুমৌকেদিমা জেলার সুখোভির কাছে অসম রাইফেলসের একটি কনভয়ের গাড়িকে লক্ষ্য করে পুঁতে রাখা শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় হাবিলদার মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যু হয় এবং আরও চার জওয়ান আহত হন। বিস্ফোরণের সময় উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষে এক সাধারণ নাগরিকও আহত হন। পাশাপাশি কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নন্দ কিশোর যাদব, মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও, উপমুখ্যমন্ত্রী ইয়ানথুঙ্গো প্যাটন এবং অসম রাইফেলসের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই বিস্ফোরণের মাত্র আট দিন আগে, ৬ জুলাই প্রতিবেশী মণিপুরের উখরুল জেলায় ইম্ফল-ডিমাপুর জাতীয় সড়ক (এনএইচ-২)-এ নুংশাং কং এলাকায় অসম রাইফেলসের একটি গাড়ির উপর অতর্কিত হামলায় ওয়ারেন্ট অফিসার বলবন্ত সিং এবং হাবিলদার চন্দ্র মোহন সিং নিহত হন। সেই ঘটনার পরও যৌথ বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, প্রভাবশালী নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন-আইএম (ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগালিম-আইজ্যাক-মুইভাহ) মণিপুরের ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং চলমান ভারত-নাগা শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডে তাদের কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছে।
























