মুম্বই, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): নকশাল দমন অভিযানের জন্য কেনা ৮২.৭৮ কোটি টাকার হেলিকপ্টার ১৭ মাস মাটিতে পড়ে থাকার ঘটনায় মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল। চুক্তি ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটির কারণে শুধু হেলিকপ্টারটি ব্যবহার করা যায়নি এমন নয়, সেটিকে পুনরায় উড়ানের উপযোগী করতে অতিরিক্ত ২.০৭ কোটি টাকা করদাতাদের অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিএজি।
২০২৪ সালের কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছে সিএজি। গত ১০ জুলাই বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে রাজ্য বিধানসভায় রিপোর্টটি পেশ করা হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গড়চিরোলি এবং সংলগ্ন নকশালপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ২০১৮ সালের মে মাসে জার্মান সংস্থা এম/এস এয়ারবাস হেলিকপ্টার্স-এর কাছ থেকে এইচ-১৪৫ মডেলের হেলিকপ্টার কেনার অনুমোদন দেয় মহারাষ্ট্র সরকার। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টারটি রাজ্যের হাতে পৌঁছয় এবং এক সপ্তাহ পর সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করে।
তবে রাজ্য সরকারের বিমান দফতরের তদারকির অভাবে সেটি দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি বলে সিএজি-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন -র নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেট এবং ডিজিসিএ অনুমোদিত মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল সংস্থা ছাড়া হেলিকপ্টারটি উড়তে পারত না। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এমআরও সংস্থা নিয়োগ না করায় সরবরাহকারী সংস্থা ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন হেলিকপ্টারটিকে অস্থায়ী সংরক্ষণে রাখতে বাধ্য হয়।
প্রায় ১০ মাস পরে, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই, মহারাষ্ট্রের বিমান দফতর এম/এস ইন্ডামার এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড-কে এমআরও সংস্থা হিসেবে নিয়োগ করে।
সিএজি জানিয়েছে, এমআরও নিয়োগে এই বিলম্বের কারণে হেলিকপ্টারটির প্রয়োজনীয় দৈনিক পরীক্ষা এবং ইঞ্জিন গ্রাউন্ড রান করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেটির এয়ারওর্দিনেস বজায় থাকেনি। পুনরায় উড়ানের উপযোগী করতে অনুমোদিত রিটার্ন টু সার্ভিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, যার জন্য রাজ্য সরকারকে অতিরিক্ত ২.০৭ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে।
সিএজি-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এমআরও সংস্থা চূড়ান্ত করতে প্রায় ১০ মাসের বিলম্বের ফলে হেলিকপ্টারটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ও ইঞ্জিন গ্রাউন্ড রান থেকে বঞ্চিত হয়, যা এয়ারওর্দিনেস বজায় রাখার জন্য জরুরি ছিল।” এই ঘটনাকে বিমান দফতরের দুর্বল পরিকল্পনা ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার ঘাটতির উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় অডিট সংস্থা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর হেলিকপ্টারটির এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কিন্তু সক্রিয় কাজে এটি মোতায়েন করা হয় ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ কেনার পর প্রায় দেড় বছর সময় লেগে যায় হেলিকপ্টারটি কার্যকর ব্যবহারে আনতে।
সিএজি আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিষয়টি রাজ্য বিমান দফতরের নজরে আনা হলেও প্রাথমিক প্রশ্নের কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। একাধিকবার স্মারক পাঠানোর পরও সাড়া না পাওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিষয়টি সরাসরি মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়। তবে এখনও সরকারি জবাব পাওয়া যায়নি।



















