কলকাতা, ১২ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের ১২টি জেলায় বেআইনিভাবে পরিচালিত ও স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসা, যেগুলিকে সাধারণত ‘খারিজি মাদ্রাসা’ বলা হয়, সেগুলি চিহ্নিত করতে চলা সমীক্ষার পর্যালোচনার জন্য ১৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই থেকে এই কমিটি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলি পরিদর্শন শুরু করবে এবং ২১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের কাছে জমা দেবে। ওই রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যে ১২টি জেলায় এই পর্যালোচনা হবে, সেগুলি হল— কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের (ডিএম) নিজ নিজ জেলার মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট ৫ জুলাইয়ের মধ্যে নবান্নে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
রাজ্য প্রশাসনের সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট পর্যালোচনার পর দেখা গিয়েছে, এই ১২টি জেলায় স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দ্বিতীয় দফায় সমীক্ষা ও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগের নির্দেশিকায় জেলাশাসকদের মাদ্রাসাগুলির প্রতিষ্ঠার তারিখ, রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে নথিভুক্ত কি না, নিবন্ধনের তথ্য, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের সংখ্যা, আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং সেখানে কী ধরনের পাঠ্যক্রম পড়ানো হয়— এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রী খুদিরাম টুডু ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে বেআইনিভাবে পরিচালিত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, চিহ্নিত হওয়ার পর এই ধরনের মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতেও যাতে রাজ্যের কোথাও বেআইনি মাদ্রাসা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক থাকবে।
























