অকল্যান্ড/নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই (আইএএনএস): সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)-এর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইস্যুতে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় দেশ।
দুই প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের, বিশেষ করে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদের, তীব্র নিন্দা করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলা এবং একই বছরের ১০ নভেম্বর নয়াদিল্লির লালকেল্লার কাছে সন্ত্রাসবাদী হামলারও কড়া নিন্দা জানিয়ে তাঁরা বলেন, এই হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক, নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং অনলাইন-সহ সব ধরনের সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করার ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও বাড়াতে কাউন্টার-টেররিজম সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।
ভারত ও নিউজিল্যান্ড আন্তঃদেশীয় ও সংগঠিত অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। মাদক পাচার, আর্থিক অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস-সম্পর্কিত অপরাধ, মানব পাচার এবং অবৈধভাবে মানুষ পাচারের মতো অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে দ্রুত আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যেও একমত হয়েছেন দুই নেতা।
বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়েও মতবিনিময় করেন নরেন্দ্র মোদি ও ক্রিস্টোফার লাক্সন। তাঁরা একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
দুই দেশ সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল, আকাশপথ ব্যবহারের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইন সনদ (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন আঞ্চলিক মঞ্চ, যেমন ইস্ট এশিয়া সামিট, আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম এবং আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টার্স’ মিটিং প্লাসে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা। আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এবং ‘আসিয়ান আউটলুক অন দ্য ইন্দো-প্যাসিফিক’-এর প্রতিও তাঁরা সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
























