গুয়াহাটি, ১০ জুলাই (আইএএনএস) : বহু কোটি টাকার কথিত জীবন সুরক্ষা পঞ্জি কেলেঙ্কারি মামলায় প্রায় ৫.৫৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার ইডির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১.৪২ কোটি টাকা এবং আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত ২২টি স্থাবর সম্পত্তি, যার আনুমানিক মূল্য ৪.১১ কোটি টাকা।
ইডির তদন্ত শুরু হয় সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর গুয়াহাটি অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ দায়ের করা এফআইআর ও চার্জশিটের ভিত্তিতে। মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং প্রাইজ চিট ও অর্থ প্রচলন স্কিম (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ১৯৭৮-এর বিভিন্ন ধারায় নথিভুক্ত হয়েছিল। এছাড়াও আসাম সিআইডি এবং সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও) এই ঘটনার তদন্ত করেছে।
ইডির অভিযোগ, জীবন সুরক্ষা গ্রুপ একাধিক সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ৪২২টি শাখার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে একটি অর্থ সঞ্চালনভিত্তিক (মানি সার্কুলেশন) প্রকল্প পরিচালনা করেছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্রুপটি পুনরাবৃত্ত আমানত, স্থায়ী আমানত, প্লট বুকিং প্রকল্প, মাসিক আয় পরিকল্পনা এবং রিডিমেবল প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৬.৮৮ লক্ষ বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করে। তবে জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন ছিল না বলে অভিযোগ।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, সংস্থাটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ৪০৩.৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও ফেরত দিয়েছে মাত্র ১৩২.৭২ কোটি টাকা। অভিযোগ, নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পুরনো বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছিল। পরে হঠাৎ করেই সংস্থাটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তদন্তে অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ ২৭০.৯১ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়েছে।
ইডির আরও অভিযোগ, সংস্থার পরিচালক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে নগদ উত্তোলন, বিমা পলিসি, স্থায়ী আমানত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে তহবিল সরিয়ে পরে সেই অর্থ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়।
























