নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই (আইএএনএস): ভারতে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির সূচনা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে নয়, বরং এর দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। একই সঙ্গে মন্ত্রকের দাবি, ই-১০ থেকে ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) চালুর সিদ্ধান্ত কোনও অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং বহু বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গাড়ি নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিস্তারিত বিবৃতিতে মন্ত্রক জানায়, ভারতে পরীক্ষামূলক ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০০১ সালে। ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হয় এবং ২০০৬ সালের মধ্যে একাধিক রাজ্যে ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি (ই-৫) চালু হয়। পরে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ইউপিএ সরকারের আমলে এই নীতির সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ২০১৪ সাল পর্যন্ত মিশ্রণের হার প্রায় ১.৫ শতাংশেই আটকে ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও বিতর্ক ছিল না। মূল সমস্যা ছিল দেশের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত ইথানল উৎপাদন।
সে সময় ভারতে মূলত আখের উপর নির্ভর করেই ইথানল উৎপাদন হতো এবং বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল প্রায় ৪০০ কোটি লিটার, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে ২০১৮ সালের মে মাসে জাতীয় জৈব জ্বালানি নীতি চালু করা হয়। এরপর পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক, খাদ্য ও গণবণ্টন দফতর, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক, ভারী শিল্প মন্ত্রক, ভারতীয় রেলসহ বিভিন্ন দফতর সমন্বিতভাবে কাজ করে ইথানল উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তোলে।
২০২১ সালের আগস্টে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ইথানল ঘাটতি এলাকায় ডেডিকেটেড ইথানল প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করে। দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তি, সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন এবং নির্দিষ্ট বাজার নিশ্চিত হওয়ায় এই প্রকল্পে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া ২০২১ সালের জুনে নীতি আয়োগ গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, তেল বিপণন সংস্থা, কৃষি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ইথানল মিশ্রণ সংক্রান্ত একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে।
মন্ত্রকের দাবি, উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ কোটি লিটারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরই ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তাই তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা তথ্যভিত্তিক নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ই-২০ চালুর আগে গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ, পরীক্ষাগার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছে।
মারুতি সুজুকি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তারা ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং করেছে, যার মধ্যে ১.৫ কোটি ছিল ই-২০ উপযোগী নয় এমন পুরনো গাড়ি। তবুও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে ক্ষয়, অস্বাভাবিক যন্ত্রাংশের ক্ষতি বা আয়ু কমে যাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। হিরো মোটোকর্পও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ভারতীয় মান সংস্থার (বিআইএস) নির্ধারিত মান মেনে প্রস্তুত হয় এবং উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
একই সঙ্গে রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের জ্বালানিতে ভেজাল বা সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, জ্বালানির গুণগত মান নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতির ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
























