বেঙ্গালুরু, ৯ জুলাই (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার। বৃহস্পতিবার বেলগাভির সুভর্ণ বিধান সৌধে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি বলেন, যোগ্য কোনও নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের ভোটার হিসেবে নাম থাকবে, তাঁরাই সরকারি সুবিধা পাবেন। যাঁরা ভোটার নন, তাঁরা সরকারি সুবিধা পাবেন না। তাই প্রতিটি ওয়ার্ড ও এলাকায় সাহায্যকেন্দ্র (হেল্প ডেস্ক) খোলা হচ্ছে। সবাইকে এই পরিষেবা ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি জানান, কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাজে রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
শিবকুমার বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়াকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক ইস্যু করা উচিত নয়। প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে।”
তিনি নির্দেশ দেন, বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) অন্তত তিনবার করে প্রতিটি বাড়িতে যেতে হবে এবং যোগ্য ভোটারদের প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ড ও এলাকায় হেল্প ডেস্ক চালু করে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করার নির্দেশও দেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা রাজনীতিবিদরা পাঁচ বছরে একবার মানুষের রায় চাই। কিন্তু সরকারি আধিকারিকদের প্রতিদিন মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, তা মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।”
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, পর্যালোচনা বৈঠক চলাকালীন কোনও আধিকারিককে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা গেলে বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্তের নির্দেশ প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া জেলা ও তালুক স্তরের আধিকারিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলেই বসবাস করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের ছোটখাটো সমস্যার সমাধানের জন্য যেন তাঁদের এক দফতর থেকে আরেক দফতরে ছুটতে না হয়। যতটা সম্ভব স্থানীয় স্তরেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
একইসঙ্গে রাজ্যের সরকারি জমির পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারগুলিকে আবাসনের জন্য জমি প্রদান করতে শীঘ্রই একটি উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি চালু করা হবে।


















