কলকাতা, ৯ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে বিশেষ পিএমএলএ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার দাখিল হওয়া এই চার্জশিটে এক আইএএস আধিকারিক এবং দুই কর্পোরেট সংস্থার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইডির চার্জশিটে আইএএস আধিকারিক জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। অভিযোগ, পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম করা এবং তা থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি। নিয়োগে অনিয়মের সময় তিনি রাজ্যের স্থানীয় সংস্থা অধিদপ্তর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোটা নিয়োগ দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা সুজিত বসুকে গত ১১ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করেছিল ইডি। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন একক বেঞ্চ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ইসিআইআর (ইনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট) বাতিলের আবেদনও খারিজ করে দেয়।
চার্জশিটে ইডির দাবি, সুজিত বসু একাই টাকার বিনিময়ে ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৮৪ জন নিয়োগপত্র পান। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর নিয়োগে অনিয়মের সূত্র প্রথম মেলে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং দালাল অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং অয়ন শীলকে গ্রেফতার করে।
সিবিআই ও ইডির সমান্তরাল তদন্তে অয়ন শীলের নামে ১০০ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ সম্পত্তির হদিস পাওয়া যায় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।
























