নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
বুধবার গভীর রাতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার ফলে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে পুনরায় সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফেরার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কার্যত যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। এরপর ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৫ ডলারে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, বুধবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে এবং পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথক বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে নৌ অবরোধও পুনর্বহাল করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, শেষকৃত্যের সময় সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ মেনেছিল। কিন্তু পরে ইরান আবার হামলা শুরু করে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, তারা আমাদের বলেছিল, শেষকৃত্যের সময় যেন হামলা না করা হয়। আমরা তা মান্য করেছি। বরং তাদের জন্য পরিস্থিতি নিরাপদও করেছি। কিন্তু এরপর তারা আবার জাহাজ লক্ষ্য করে রকেট হামলা শুরু করে।
ট্রাম্প আরও জানান, এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছিল এমন ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলিকেই মার্কিন বাহিনী লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।



















