হরিদ্বার, ৮ জুলাই (আইএএনএস): বদ্রীনাথ মন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী বুধবার বলেন, মন্দিরের অনুদানে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা “গোহত্যার সমান পাপ”। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, এই ঘটনায় যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
হরিদ্বারে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে-ই দোষী প্রমাণিত হবে, তাকে ছাড়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি গোহত্যার সমান পাপ। নিজের মা-বাবাকে হত্যা করার মতোই এটি একটি মহাপাপ। এই ধরনের অপরাধ কোনওভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং দোষীদের শাস্তি হবেই।”
ভবিষ্যতে মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির জন্য নতুন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ধামী জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) অভিযোগের ভিত্তিতে বদ্রীনাথ থানায় মন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ৩০৬ এবং ৩১৬(৫) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় বিকেটিসি-র চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী প্রমোদ নৌটিয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় তদন্তের পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের হয়েছে।
বুধবার বিকেটিসি-র মন্দির আধিকারিক যুধবীর পুষ্পবানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বদ্রীনাথ থানায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিকেটিসি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রমোদ নৌটিয়াল অনুমতি ছাড়াই মন্দিরের তহবিল থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
এরপর তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ৭ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে মন্দির কমিটি। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। (আইএএনএস)



















