নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুলাই:
আগামী ১ জুলাই থেকে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে শুরু হতে যাচ্ছে দু’দিনব্যাপী ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬। এই উপলক্ষে আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার সভাপতিত্বে মেলা প্রাঙ্গণস্থিত অডিটোরিয়ামে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচনাকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের যুব সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু গড় আয় ও জিএসডিপি বৃদ্ধিতে রাজ্যে দেশী, বিদেশী বিনিয়োগ একান্ত প্রয়োজনীয়। সেই দিক দিয়ে এই ধরনের বিজনেস কনক্লেভের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। রাজ্যে প্রথমবারের মত এত বৃহৎ আকারে বিজনেস কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে, যা একথায় অভূতপূর্ব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ বদলে যাচ্ছে। তিনি জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কর্মচারীদের মধ্যেও দেশের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা সৃষ্টি করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় আরও বলেন, জি-২০, নর্থইস্ট কাউন্সিলের প্ল্যানারী বৈঠক, আয়োজনে রাজ্যের সর্বস্তরের কর্মচারীগণ একজোট হয়ে টিম ত্রিপুরা হিসেবে কাজ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এই অনুষ্ঠানও সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে সফলভাবে আয়োজিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বিজনেস কনক্লেভে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি কাজ করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবহন, পর্যটন ক্ষেত্রগুলির বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বাপেক্ষা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, গতবছরের বিজনেস কনক্লেভে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরমধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সম্পর্কিত কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়ে গেছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই কর্মসূচিকে ফলপ্রসু করে তুলতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরামর্শও প্রদান করেন। পর্যালোচনা সভায় প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচিটির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো বলেন, ১ জুলাই বিকেলে এই কনক্লেভের সূচনা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় ডোনারমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ছাড়াও রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য সদস্যাগণ উপস্থিত থাকবেন। এই উপলক্ষ্যে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে থিমভিত্তিক বিভিন্ন দপ্তরের এবং কেন্দ্রীয় পি এস ইউ-এর ২০টির বেশী প্রদর্শনী স্টল থাকবে। দেশ ও বিদেশের ৫০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন, কনসালটেন্টদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স, কাজাকিস্থান, মালদ্বীপ, নেপাল, উজবেকিস্থানের মতো দেশগুলির প্রতিনিধিগণ কনক্লেভে আসার কথা সুনিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিগণ এবিষয়ে সদর্থক রয়েছেন। ২ দিনের এই কনক্লেভে স্বাস্থ্য, পর্যটন, শিক্ষা, লজিস্টিকস, তথ্য ও প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণ শক্তি, রিয়েল এস্টেট, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি চা, রাবার ও আগর ভিত্তিক শিল্প বিষয়ে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২ দিনের এই কনক্লেভে বিভিন্ন দপ্তরের প্রদর্শনী ছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে আগত প্রতিনিধিদের সরাসরি মিটিং, রাউন্ড টেবিল ডিনার, সেক্টোরাল প্রেজেন্টেশান, বিজনেস রিফর্মস ও ইকোনমিক রিফর্মস নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা, মউ স্বাক্ষর কর্মসূচি থাকবে। এই কনক্লেভের ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হল ফিকি এবং সহায়তায় রয়েছে ইনভেস্ট ইন্ডিয়া। পর্যালোচনা সভায় আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, এই কর্মসূচির সামগ্রিক সফলতা দেশ-বিদেশে রাজ্যের নামকে আরও অনেক উঁচুতে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনী সরলীকরণে দেশের মধ্যে রাজ্য প্রথম স্থানে রয়েছে। আর এর প্রভাব অনুধাবন করার জন্য কেন্দ্রীয়স্তরের আধিকারিকদেরও এই কনক্লেভে যোগদানের সম্ভবনা রয়েছে। সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ। কনক্লেভ উপলক্ষে যে সমস্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রদর্শনী স্টল খোলা হবে তাদের সচিবগণ নিজ নিজ দপ্তর সম্পর্কিত বিনিয়োগের পরিমান ও সম্ভাবনা, মউ স্বাক্ষর ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনারানী সরকার, প্রধান সচিব শাম্ভুনু সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব, অধিকর্তা ও সকলস্তরের আধিকারিকগণ। সভার শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী নির্মিয়মান বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
























