আগরতলা, ৪ জুলাই: দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং অখণ্ডতা রক্ষায় বহু মনীষী ও দেশপ্রেমিক আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে এবং অনেক জাতীয়তাবাদী নেতার অবদানকে আড়াল করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভাবনাকেই বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আজ আগরতলা টাউন হলে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র সম্মেলনে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা বিধায়ক সুশান্ত দেব, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদারসহ দলের অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা।
ছাত্র সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং অখণ্ডতা রক্ষায় বহু মনীষী ও দেশপ্রেমিক আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে এবং অনেক জাতীয়তাবাদী নেতার অবদানকে আড়াল করে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়সহ বহু জাতীয়তাবাদী নেতার জীবন, দর্শন ও অবদান সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। ফলে দেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের যুবসমাজকে প্রকৃত ইতিহাস জানার এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী মনীষীদের সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় আদর্শ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য ছাত্র-যুব সমাজের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি একসময় জওহরলাল নেহেরুর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। কিন্তু নেহেরু-লিয়াকত চুক্তির বিরোধিতা করে এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আপস না করেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আইনের মূল ভাবনা প্রথম ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীই তুলে ধরেছিলেন। তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারাকে অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে সিএএ কার্যকর করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় বীরদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছে। নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
























