নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই (আইএএনএস): পাঞ্জাব কংগ্রেসে নতুন কার্যকরী সভাপতি ও বিভিন্ন নির্বাচন কমিটির দায়িত্ব বণ্টনে প্রবীণ নেতা মনীশ তিওয়ারিকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে ওঠা জল্পনাকে ঘিরে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। তবে কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল বলেন, “এতে নতুন কিছু নেই। কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরেই অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। পাঞ্জাব, দিল্লি বা অন্য যে কোনও রাজ্যেই হোক, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। মনীশ তিওয়ারির সঙ্গে যা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেই তাই হচ্ছে।”
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ চুঘও কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, “কংগ্রেস এখন মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনের মতো। পাঞ্জাবে এখন ‘মহাপরিক্রমাবাদী’ ও ‘পরিক্রমাবাদীদের’ মধ্যে লড়াই চলছে, কারণ ‘পরাক্রমবাদীরা’ ইতিমধ্যেই দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্র, অহংকার এবং একনায়কতন্ত্র চরমে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নিও প্রকাশ্যে বলেছেন যে দলিত নেতাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং জাতিভিত্তিক নিয়োগ করা হচ্ছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গুরু প্রকাশ বলেন, “কংগ্রেসে কোনও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নেই। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যা সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই চূড়ান্ত হয়।”
অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ সুখদেও ভগত এই অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “মনীশ তিওয়ারি কংগ্রেসের অন্যতম প্রবীণ, অভিজ্ঞ ও সম্মানিত নেতা। তিনি দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে, এই দাবি সঠিক নয়।”
প্রসঙ্গত, পাঞ্জাব কংগ্রেসে সাংগঠনিক রদবদল এবং ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠনের পর বৃহস্পতিবার এক রহস্যময় পোস্ট করেন মনীশ তিওয়ারি। এক্স-এ তিনি লেখেন, “ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনিরাপত্তার কোনও প্রতিষেধক যদি আমার কাছে থাকত! তবে গত ৪৫ বছরে কংগ্রেস আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, আমিও আমার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময় দলকে উৎসর্গ করেছি।”
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের সাতজন কংগ্রেস সাংসদের মধ্যে ছয়জনকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হলেও মনীশ তিওয়ারির নাম তালিকায় নেই। বর্তমানে তিনি চণ্ডীগড়ের সাংসদ।
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি) সম্প্রতি জানিয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অনুমোদনে চরণজিৎ সিং চন্নিকে প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান, সুখপাল সিং খৈরাকে সহ-চেয়ারম্যান, বিজয় ইন্দর সিংলাকে নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটির প্রধান, সুখজিন্দর সিং রন্ধাওয়াকে কোর কমিটির প্রধান এবং অমর সিংকে ইস্তাহার কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
এছাড়া অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং প্রতাপ সিং বাজওয়া কংগ্রেস বিধায়ক দলের নেতা পদে বহাল রয়েছেন। সুকবিন্দর সিং ড্যানি, রাজ কুমার ভারকা এবং সঙ্গত সিং গিলজিয়ানকে পাঞ্জাব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।



















