নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): ভারত-জাপান সম্পর্কের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি বিনিয়োগ এবং আগামী দিনে এই অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
এনডিটিভির সম্পাদক-ইন-চিফ রাহুল কনওয়ালের সঙ্গে ‘ইন্দো-জাপান স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ’-এ আলোচনায় গোয়েল বলেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের মূল ভিত্তিগুলির একটি হল বিনিয়োগ। এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে।
গোয়েল বলেন, “প্রায় ৪০ বছর আগে মারুতি সুজুকি ভারতে এসে আধুনিক, সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ি বাজারে আনে। এর ফলে ভারত অটোমোবাইল ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার পথে এগোয়।”
তিনি জানান, চলতি বছরের মে মাসে ভারতে বিক্রি হওয়া ৪ লক্ষ যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে ১.৪৭ লক্ষই ছিল মারুতি সুজুকির।
জাপানের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে গোয়েল বলেন, ওডিশায় ভারতের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর জাপানের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে, যা লৌহ আকরিক পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ভারত-জাপান বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারত জাপান থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য আমদানি করে এবং জাপানে উচ্চমানের প্রকৌশলজাত পণ্য, অটো কম্পোনেন্ট ও ইলেকট্রনিক উপাদান রফতানি করে। “আমরা কাঁচামাল নয়, মূল্য সংযোজিত উচ্চমানের পণ্য রফতানি করছি। ফলে এই সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।
ভারত-জাপান সম্পর্কের আগামী অধ্যায় প্রসঙ্গে গোয়েল বলেন, ভারত জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় এবং জাপানি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়।
ভারত-জাপান যৌথ প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-আমদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডর। জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তিতে নির্মিত এই বুলেট ট্রেনে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল সম্ভব হবে। এর ফলে মুম্বই থেকে আমদাবাদের যাত্রাসময় ছয় ঘণ্টার বেশি থেকে কমে দুই ঘণ্টার কিছু বেশি হবে।
প্রকল্পে বিলম্বের জন্য মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ) সরকারকে দায়ী করে গোয়েল বলেন, রাজনৈতিক কারণে জমি অধিগ্রহণে বাধা দেওয়ায় প্রকল্পে অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, “গুজরাটের অংশে প্রায় সমস্ত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু মহারাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের জন্য জমি বরাদ্দে বিলম্ব হয়। এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি আবার নির্ধারিত সময়সূচিতে ফিরেছে।”
এছাড়া জাপানে ভারতীয় পেশাদারদের জন্য, বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও জানান গোয়েল। তাঁর মতে, জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যার জন্য দক্ষ পরিচর্যাকারীর চাহিদা রয়েছে। তবে সে জন্য জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “জাপানে দক্ষ কেয়ারগিভারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে জাপানি ভাষা না জানলে বয়স্কদের সঠিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে ভারতীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।”
_______
























