জয়পুর, ৩ জুলাই (আইএএনএস) : হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর একাধিক রোগীর গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ঘটনার জেরে বুপিভাকেইন ইনজেকশনের একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের বিক্রি ও ব্যবহার রাজ্যজুড়ে নিষিদ্ধ করেছে রাজস্থান ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।
বুপিভাকেইন সাধারণত সিজারিয়ান প্রসবসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের সময় স্পাইনাল অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ইনজেকশন ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসএমএস মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. দীপক মহেশ্বরী জানান, অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে এই ইনজেকশন প্রয়োগের পর ১৬ জন রোগীর মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব অ্যানাস্থেসিওলজিস্টস এবং অ্যানাস্থেসিয়া পেশেন্ট সেফটি অ্যাসোসিয়েশন দেশজুড়ে চিকিৎসকদের থেমিস মেডিকেয়ার লিমিটেড প্রস্তুতকৃত বুপিভাকেইন ইনজেকশন স্পাইনাল অ্যানাস্থেশিয়ায় ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এসএমএস মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ রাজ্যের সব হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট এবং বিভাগীয় প্রধানদের অবিলম্বে ওই ইনজেকশনের ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
রাজস্থান ড্রাগ কন্ট্রোলার অজয় ফাটাক জানান, নিষিদ্ধ করা হয়েছে ডেক্সট্রোজে বুপিভাকেইন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজরের ব্যাচ নং বিকেপি০২৬০১,, যা থেমিস মেডিকেয়ার লিমিটেড তৈরি করেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তদন্ত চলাকালীন এই ব্যাচের বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাচের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাচের নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যে এই ঘটনার রিপোর্ট ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলএর কাছে জমা দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্ত ১৬ জন রোগীর মধ্যে বমি বমি ভাব, বমি, তীব্র মাথাব্যএবং কিছু ক্ষেত্রে খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা যায়। কয়েকজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়।
ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাচের প্রায় ১৪ হাজার ইনজেকশন রাজস্থানের জয়পুর, হনুমানগড়, ভরতপুর, করৌলি, কোটা, শ্রীগঙ্গানগর এবং টঙ্ক জেলায় সরবরাহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে জয়পুর ডিপোতে থাকা ৭ হাজার ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে, বাজারে থাকা ১,৫০০ ইনজেকশনের বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে, ১,৫০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হাসপাতাল ও পরিবেশকদের কাছ থেকে আরও ২ হাজার ইনজেকশন ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ইনজেকশনের ব্যবহার ও বিক্রি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। এদিকে, ঘটনাটির তদন্তে একটি কেন্দ্রীয় দলও কাজ শুরু করেছে।
























