আগরতলা, ৩০ জুন: পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা মুসলিমপাড়া এলাকায় এক দম্পতির বিরুদ্ধে নিজেদের নবজাতক কন্যাশিশুকে আসামে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও জেলা শিশু সুরক্ষা (ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট)-এর যৌথ উদ্যোগে শিশুটিকে উদ্ধার করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনমালা মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা সাজাহান মিয়া ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই কারণেই তাঁরা তাঁদের কনিষ্ঠ কন্যাশিশুকে প্রতিবেশী রাজ্য আসামের করিমগঞ্জ জেলার বাজারিছড়া থানা এলাকার এক ব্যক্তির হাতে অর্থের বিনিময়ে তুলে দেন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা প্রশাসন, চাইল্ডলাইন এবং আমতলী থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের একটি দল থানায় পৌঁছে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিশুটির মা সরাসরি সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্বীকার করেন যে আর্থিক অভাবের কারণে তিনি শিশুটিকে আসামের এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে শিশুটির মা-বাবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে এই ঘটনায় শিশু বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং সম্ভাব্য মানবপাচার বা অন্য কোনও অপরাধমূলক দিক রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনাটি ঘিরে গোটা কাঞ্চনমালা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
























