আগরতলা, ৩০ জুন: মাদকবিরোধী অভিযানে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল ত্রিপুরা পুলিশ। রাজ্যস্তরের ড্রাগ ডিসপোজাল কমিটি-র তত্ত্বাবধানে বোধজংনগর শিল্পাঞ্চলে ৪৫১টি ফৌজদারি মামলায় জব্দ হওয়া বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে ধ্বংস করা হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যস্তরের ড্রাগ ডিসপোজাল কমিটির চেয়ারম্যান ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইন-শৃঙ্খলা) মঞ্চক ইপ্পার, আইপিএস, সাইবার ক্রাইমের পুলিশ সুপার নবদ্বীপ জমাতিয়া, আইপিএস এবং অ্যান্টি-নারকোটিক্স শাখার পুলিশ সুপার পিয়ামাধুরী মজুমদার।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল, ১০,৯৩২.২৩ কেজি গাঁজা, ৪০,৯৭৮ বোতল কফ সিরাপ, ১,৭৬,৪৪১টি সাইকোট্রপিক ট্যাবলেট, ১,৮৮৯.৫৭ গ্রাম হেরোইন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৮ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৯ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত আইনগত বিধি অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এত বড় পরিমাণ মাদক ধ্বংসের পরও রাজ্যে অবৈধ গাঁজা চাষ এবং মাদক সরবরাহ চক্র সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন মহল। সমালোচকদের দাবি, নিয়মিত মাদক জব্দ ও ধ্বংসের খবর সামনে এলেও অবৈধ গাঁজা চাষ বন্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য এখনও মিলছে না।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় অবৈধ গাঁজার ক্ষেত ধ্বংস করতে গেলে পুলিশকে স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীর বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি, এই ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে রাজনৈতিক প্রভাবও কখনও কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তার প্রমাণ হলেও, মাদকের উৎপাদন, পাচারচক্র এবং আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান চালানোই রাজ্যের মাদকবিরোধী লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে পারে।



















