নয়াদিল্লি, ২৯ জুন (আইএএনএস) : আগামী ১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক ক্রেতাদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর আরোপিত অস্থায়ী বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এর ফলে শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক এবং পরিবহণ খাতের গ্রাহকরা আবারও খুচরো জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কোনও পরিমাণগত সীমাবদ্ধতা ছাড়াই জ্বালানি কিনতে পারবেন।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক ক্রেতারা খুচরো পেট্রোল পাম্প থেকে আগের মতোই নির্দ্বিধায় পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং জ্বালানির চাহিদার অস্বাভাবিক প্রবণতার কারণে চলতি মাসের শুরুতে এই অস্থায়ী বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবার সেই ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
গত ১২ জুন ‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই-স্পিড ডিজেল (টেম্পোরারি রেগুলেশন অব সাপ্লাই থ্রু রিটেল আউটলেটস) অর্ডার, ২০২৬’-এর আওতায় শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের খুচরো জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রতি গ্রাহক বা যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের সীমা নির্ধারণ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পরিবহণ সংস্থা, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক গ্রাহকরা কোনও ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আবার খুচরো পাম্প থেকে জ্বালানি কিনতে পারবেন।
বিধিনিষেধ জারির সময় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছিল, কালোবাজারি রোধ, ডিজেল মজুত প্রতিরোধ এবং খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র থেকে জ্বালানির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রক স্পষ্ট করেছিল, এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারত।
সরকারি আধিকারিকরা তখনও জানিয়েছিলেন, এই বিধিনিষেধের অর্থ দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের কোনও ঘাটতি রয়েছে এমন নয়। এটি জ্বালানির রেশনিংয়ের উদ্দেশ্যেও জারি করা হয়নি।
সরকারের দাবি, কয়েকটি জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্রে অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বহু শিল্প ও বাল্ক ডিজেল গ্রাহক নির্দিষ্ট বাল্ক সরবরাহ কেন্দ্রের পরিবর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থার খুচরো পাম্প থেকে জ্বালানি কেনা শুরু করেছিলেন।
এর প্রধান কারণ ছিল খুচরো ও বাল্ক ডিজেলের দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। মন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাল্ক ডিজেলের মূল্য নির্ধারিত হলেও খুচরো ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত কম থাকায় অনেক বাণিজ্যিক গ্রাহক খুচরো পাম্পের দিকে ঝুঁকেছিলেন।



















