জেরুজালেম, ২৯ জুন (আইএএনএস বাংলা): যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার তিনটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার আইডিএফ জানায়, হিজবুল্লার ব্যবহৃত একটি রকেট লঞ্চারও ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম লেবাননে হিজবুল্লার একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুড়ঙ্গটি ২০০ মিটারেরও বেশি দীর্ঘ এবং প্রায় ২৫ মিটার গভীর ছিল।
আইডিএফ-এর দাবি, ওই সুড়ঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র এবং একাধিক লঞ্চিং শ্যাফ্ট ছিল, যা ইজরায়েলের ভূখণ্ড ও সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
মার্কিন মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্প্রতি একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান এবং ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।
জেরুজালেমে এক সাংবাদিক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, “এই চুক্তি ইজরায়েল ও লেবাননকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ইরান ও হিজবুল্লাকে দুর্বল করবে। এটি ভবিষ্যতের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন ইজরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখার অধিকার স্বীকার করেছে, যতদিন তা দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন বলে বিবেচিত হবে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য, হিজবুল্লা এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলি বাহিনী ওই নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করবে।
তিনি জানান, চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা অঞ্চলের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন দুটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে হিজবুল্লার অস্ত্র অপসারণ করে সেই অঞ্চল লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইজরায়েল ৯,০০০-এরও বেশি হিজবুল্লা যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং সংগঠনটির প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেটের মজুদের ৯০ শতাংশ ধ্বংস করেছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইজরায়েল ও লেবানন “দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের সর্বশেষ বৈঠকের শেষে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
























