ঢাকা, ২৯ জুন (আইএএনএস বাংলা): বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে কড়া আক্রমণ করল ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতার জন্য জামায়াত এখনও জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। এখনও তাদের সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদীয় আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইলে বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনৈতিক পথ অনেক সহজ হতো।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে আপনারা যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার জন্য একবারও জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। যদি ক্ষমা চাইতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যাই থাকত না। কিন্তু তা না করে আপনাদের নেতা গোলাম আজম বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা কোনও ভুল করিনি।’ এখনও চাইলে আপনারা সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এমন একটি দলের সঙ্গে তারা জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস করত না।
তিনি বলেন, “আমি আশা করি, ভবিষ্যতে তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে। এই তরুণ রাজনীতিকদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চাই তারা সফল হোক। কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিল এমন শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের কলঙ্ক তারা যেন বহন না করে।”
এদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জামায়াতকে সত্যিই ধর্মীয় দল হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে তৎকালীন জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে।”
এদিকে, ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার জন্য পাকিস্তান এবং তাদের সহযোগী জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া শুধু অতীতের ব্যর্থতা নয়, বরং ইতিহাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করার প্রচেষ্টা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি কেবল অতীতের ইতিহাস নয়; বরং রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কারণে সচেতনভাবে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালে জামায়াত শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেনি, তারা পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের সহযোগিতা করে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের ওপর চালানো নির্যাতনের অংশীদার হয়েছিল। এই অধ্যায়ই দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
























