মুম্বই, ২৯ জুন (আইএএনএস): পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন গায়ক-সুরকার আমাল মালিক। তাঁর দাবি, ভারতে মহিলাদের সুরক্ষার জন্য আইন পুরুষদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হলেও সেই আইনের অপব্যবহার করা উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে আমাল মালিক নারী-পুরুষের সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা এবং কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
তিনি লেখেন, “প্রিয় মহিলারা, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুরুষদের কারণে আপনাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তার জন্য আমি দুঃখিত। আপনাদের ক্ষোভের প্রতি আমার সমর্থন রয়েছে। নিজেদের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রয়োজন। তবে সেই লড়াই যেন শুধু তাঁদের বিরুদ্ধেই হয়, যারা আপনাদের দমিয়ে রাখতে চায়, নিজেদের সম্পত্তি মনে করে বা কী পরবেন, কীভাবে থাকবেন তা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।”
আমাল আরও বলেন, “সবকিছুকে ‘টক্সিক’ বলে চিহ্নিত করা এবং নিজের দায় এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। শারীরিক নির্যাতন, অর্থকে আবেগের উপরে স্থান দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর জন্য বিয়ে করা বা কোনও সম্পর্কের প্রতি আন্তরিক না হয়েও কাউকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া— এগুলোই প্রকৃত অর্থে বিষাক্ত আচরণ।”
তিনি লেখেন, “পুরুষেরা আসলে শান্তিই চায়। যৌনতা সর্বত্র রয়েছে। কিন্তু বিয়ে বা বাগদানের ক্ষেত্রে অনেক সময় বাহ্যিক আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিয়ে কি ইনস্টাগ্রামের জন্য, নাকি সত্যিকারের দাম্পত্য জীবনের জন্য? লোনাভালায় মধুচন্দ্রিমা কাটানো কি যথেষ্ট নয়? সত্যিকারের ভালোবাসা কি শুধুই মালদ্বীপে গিয়ে অনুভব করা যায়?”
কেতন আগরওয়াল সম্পর্কে আমাল লেখেন, “এই মানুষটির এমন পরিণতি প্রাপ্য ছিল না। তাঁর হাসি আর চোখের দিকে তাকান। তিনি বিয়ে নিয়ে কতটা আনন্দিত ছিলেন, তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কেতন আগরওয়ালকে খুবই সরল ও আন্তরিক মানুষ বলে মনে হয়েছে।”
অন্য একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “তাঁকে হত্যা করার জন্য যে পরিমাণ পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার অল্প অংশের চেষ্টাতেই বলা যেত— ‘আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি, এই বিয়ে করতে চাই না।'”
তিনি আরও বলেন, “তারপরও যদি অপরপক্ষ বিষয়টি না বুঝত, তাহলে পরিবারের সাহায্য নেওয়া যেত। একজন শিক্ষিত ও স্বনির্ভর মহিলাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়েতে বাধ্য করা সহজ নয়।”
আইন প্রসঙ্গে আমালের মন্তব্য, “ভারতে মহিলাদের জন্য আইন পুরুষদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। কিন্তু সেই আইনকে অপব্যবহার করে ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা উচিত নয়।”
শেষে তিনি লেখেন, “একটি সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়ার পরও সুখে থাকার কথা ভাবার দুঃসাহস কীভাবে হয়? একটি জীবন শেষ হয়ে গেছে, একাধিক পরিবার ভেঙে পড়েছে। এরা দানব।”
উল্লেখ্য, পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের অভিযোগ, লোহগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে কেতনকে খুন করা হয়। এই ঘটনায় তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
পেশাগত জীবনে আমাল মালিক ‘সুরজ ডুবা হ্যায়’, ‘কর গয়ি চুল’, ‘বল দো না জারা’, ‘কৌন তুঝে’, ‘সব তেরা’, ‘ম্যায় রহুঁ ইয়া না রহুঁ’, ‘জব তক’ এবং ‘চলে আনা’-সহ একাধিক জনপ্রিয় গানের জন্য পরিচিত। এছাড়াও তিনি ‘বিগ বস ১৯’-এ প্রতিযোগী হিসেবেও অংশ নিয়েছিলেন।



















