কলকাতা, ২৯ জুন (আইএএনএস): তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) আরও এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবালকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শামস ইকবাল কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি প্রাক্তন কলকাতা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত এবং অতীতে একাধিক জনসভায় তাঁর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিযোগকারী মহম্মদ শাদাব গার্ডেনরিচ থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শামস ইকবাল ও তাঁর সহযোগীরা নিয়মিত তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে শুরু করেন। অভিযোগ, এলাকায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে হলে এই টাকা দিতেই হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে মোট ৭০ লক্ষ টাকা জোর করে আদায় করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযোগকারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়েও তাঁর কাছ থেকে একাধিকবার টাকা আদায় করা হয়। প্রাণভয়ের কারণে এতদিন তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাননি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে শামস ইকবাল ছাড়াও তাঁর দুই সহযোগী মহম্মদ ফারাজ ও ফিরোজ কুরেশির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব ছিল।
রবিবার গভীর রাতে শামস ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাঁকে শহরের একটি আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁর হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারের পর কলকাতা পুরসভার প্রায় ১৩ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তোলাবাজি, শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, এতদিন ভয় ও প্রভাবের কারণে নীরব থাকা আরও অনেকে এখন অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসছেন।
উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড বর্তমানে একজন প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।



















