বেঙ্গালুরু, ২৯ জুন (আইএএনএস): কর্নাটকে ওয়াকফ জমি সংক্রান্ত বিতর্ক ফের নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা আর. অশোক অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস সরকার রাজ্যজুড়ে জমির নথিতে ওয়াকফ-সংক্রান্ত এন্ট্রি যুক্ত করে কৃষকদের জমির অধিকারের ওপর হুমকি তৈরি করছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অশোক দাবি করেন, কংগ্রেস সরকারের “তোষণের রাজনীতি” এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা কৃষকদের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করছে। তাঁর অভিযোগ, জমির রেকর্ড অব রাইটস, টেন্যান্সি অ্যান্ড ক্রপস (আরটিসি)-এর ১১ নম্বর কলামে ওয়াকফ-সংক্রান্ত উল্লেখ করা হচ্ছে, যা লক্ষাধিক কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অশোকের দাবি, এটি শুধুমাত্র জমির নথিতে পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং জমির মালিকানা, জীবিকা এবং কৃষকদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর প্রশ্ন। তিনি এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে অবিলম্বে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
বিজেপি নেতার দাবি, ইতিমধ্যেই ১.৮০ লক্ষেরও বেশি আরটিসিতে ওয়াকফ-সংক্রান্ত এন্ট্রি করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া প্রায় ৩ লক্ষ জমির নথিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কর্নাটকের ৩১টি জেলার কৃষকেরাই এর প্রভাবে পড়তে পারেন।
অশোকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বাধিক প্রায় ৭৩ হাজার আরটিসিতে এই ধরনের এন্ট্রি রয়েছে কারওয়ার জেলায়। এছাড়া মাঙ্গালুরুতে প্রায় ৪৮ হাজার, শিবমোগ্গায় ৩৮ হাজার, বেঙ্গালুরু দক্ষিণে ১৮ হাজার, কালাবুরাগিতে ১৭ হাজার এবং বাগালকোটে আরও ১৭ হাজার আরটিসিতে ওয়াকফ-সংক্রান্ত উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের উদ্দেশে অশোক বলেন, এই রিপোর্টগুলি যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সরকার অবিলম্বে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনুক। আর যদি কৃষকদের আরটিসিতে সত্যিই এই ধরনের এন্ট্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন কৃষকদের নিজেদের জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই এন্ট্রির ফলে কৃষকদের জমি বিক্রি, ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়া বা মালিকানার অধিকার প্রয়োগে কোনও সমস্যা তৈরি হবে কি না। তাঁর অভিযোগ, কৃষকদের স্বার্থের বদলে কংগ্রেস সরকার তোষণের রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অশোক বলেন, “যে কৃষক দেশকে খাদ্য জোগান দেন, তাঁকেই যদি নিজের জমির মালিকানা প্রমাণ করতে সরকারি দফতরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তাহলে তা অন্নদাতার প্রতি অবিচার।”
বিরোধী দলনেতা অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা, সমস্ত ওয়াকফ-সংক্রান্ত এন্ট্রি পুনর্বিবেচনা করা এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “কৃষকদের জমির প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। কৃষকদের জমির দিকে কেউ নজর দিলে কর্নাটকের মানুষ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কর্নাটকে ওয়াকফ জমি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বারবার রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কৃষকদের জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও কংগ্রেস সরকার বারবার জানিয়েছে, কোনও কৃষকের মালিকানার অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না এবং কোনও অসঙ্গতি থাকলে তা আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে। অশোকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই বিতর্ক ফের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
























