নয়াদিল্লি, ২৯ জুন (আইএএনএস): রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি দাবি করেন, “টাকা লুটের চেয়েও মানুষের বিশ্বাস লুট অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।”
রাম মন্দিরের অনুদান বিতর্ক প্রসঙ্গে আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রশিদি অতীতের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্দির ট্রাস্টের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি দাবি করেন, রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আগের সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর বক্তব্য, “রথযাত্রার সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে ১,৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই অভিযোগে চম্পত রায়ের নামও জড়িয়েছিল। অনেকে বলেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে রাম মন্দির আন্দোলনের জন্য লড়াই করেছিলেন, তাঁদের সরিয়ে দিয়ে নতুন ট্রাস্ট গঠন করা হয় এবং চম্পত রায়কে তার প্রধান করা হয়।”
রশিদি আরও বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একাংশ এবং কয়েকজন হিন্দু ধর্মীয় নেতা চম্পত রায়ের পক্ষেও সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, “সাধ্বী ঋতম্ভরা বলেছেন, চন্দন গাছেও সাপ জড়িয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য, চম্পত রায় একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি।”
মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে রশিদি বলেন, “আমার নিজের বাড়িতে চুরি হলে তার দায় আমারই। সেখানে যদি চম্পত রায়ের অনুমতি ছাড়া একটি পাতাও না নড়ে, তাহলে তাঁর অজান্তে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি কীভাবে সম্ভব?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অর্থ গণনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর কথায়, “কেউ বলছেন সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছিল না, কেউ বলছেন টাকা গোনার সময় ভুল হয়েছে, আবার কেউ বলছেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময় গরমিল হয়েছে।”
মন্তব্যের শেষে রশিদি বলেন, “অনেকে বলেন বাবর একবার দেশ লুট করেছিলেন। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আরও বড় অপরাধ। এটা বিশ্বাস লুট, যা টাকা লুটের থেকেও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।”
এদিকে, পৃথক প্রতিক্রিয়ায় সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম.এ. বেবি ধর্মীয় স্থান নিয়ে বিতর্ক না বাড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “কৃষ্ণ জন্মভূমি বা রাম জন্মভূমি নিয়ে আমাদের বিবাদে জড়ানো উচিত নয়। যাঁরা রাম, কৃষ্ণ, যিশু খ্রিস্ট, আল্লাহ বা ভগবান বুদ্ধের উপাসনা করেন, তাঁদের সকলেরই স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকার থাকা উচিত।”
তবে একই সঙ্গে তিনি রাম মন্দির ট্রাস্টের পরিচালনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, “অযোধ্যার রাম মন্দিরে ব্যাপক লুটপাট চলছে এবং যাঁরা ট্রাস্ট পরিচালনা করছেন, তাঁদের অনেকেই বিজেপি ও আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত।”
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে এম.এ. বেবি বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, নাকি তাঁদের আড়াল করে অন্যদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
রাম মন্দিরকে ঘিরে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার আবহে মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও পরিচালনা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই মন্তব্যগুলি সামনে এসেছে।



















