আগরতলা, ২৮ জুন: ত্রিপুরার আনারস শিল্পে এক বড় সাফল্যের ইঙ্গিত হিসেবে, ত্রিপুরা কুইন আনারস গ্লোবাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত বায়ার-সেলার মিটে প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্মিলিত বাণিজ্যমূল্যের ১৮টি লেটার অফ ইনটেন্ট আদান-প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনটি শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “মন কি বাত”-এর সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে। এতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ ) মানিক সাহা, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য সহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা ও উৎসবের অংশগ্রহণকারীরা।
বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত বায়ার-সেলার মিট ছিল দিনের প্রধান আকর্ষণ। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য এবং আপেডা এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুনিতা রাই।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট অতিথিরা ত্রিপুরার বিখ্যাত কুইন আনারসের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালী করা, বাজার সংযোগ বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়।
কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, এই বায়ার-সেলার মিটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪০ জন ক্রেতা অংশগ্রহণ করেন। এতে কৃষক উৎপাদক সংস্থা, উদ্যোক্তা, উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলস্বরূপ ১৮টি লেটার অফ ইনটেন্ট আদান-প্রদান হয়, যার মোট বাণিজ্য সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা—যা ত্রিপুরার কুইন আনারসের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরও জানান, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ত্রিপুরার আনারসের গুণমান ও বাজারযোগ্যতার প্রতি শিল্পজগতের আস্থা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে নতুন বিপণন সুযোগ সৃষ্টি হবে, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং রাজ্যের কৃষি-রপ্তানি ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
মন্ত্রী বলেন ত্রিপুরা কুইন আনারস গ্লোবাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ রাজ্যের প্রিমিয়াম উদ্যানজাত পণ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি কৃষক, উদ্যোক্তা, প্রক্রিয়াজাতকারক, রপ্তানিকারক ও ক্রেতাদের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার এক জীবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।”



















