আগরতলা, ২৮ জুন: রামকৃষ্ণ মিশন, ধলেশ্বরের উদ্যোগে শনিবার বিবেকানন্দ হলে “মানুষ তৈরির শিক্ষা: অভিভাবকের দায়িত্ব” শীর্ষক এক মূল্যবোধভিত্তিক অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রায় ২৫০ জন অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষানুরাগী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন, ধলেশ্বরের সম্পাদক স্বামী অমর্ত্যানন্দজী মহারাজ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সন্তানকে কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সফল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়, বরং তাকে একজন সত্যনিষ্ঠ, চরিত্রবান, সহানুভূতিশীল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই অভিভাবকের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা দর্শনের উল্লেখ করে বলেন, প্রকৃত শিক্ষা কেবল তথ্য অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের অন্তর্নিহিত মহত্বের বিকাশই প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য। তিনি পরিবারকে শিশুর প্রথম বিদ্যালয় এবং মা-বাবাকে প্রথম শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সন্তান উপদেশের চেয়ে অভিভাবকের জীবন থেকেই বেশি শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, আত্মসংযম ও সেবার আদর্শ অভিভাবকদের নিজেদের জীবনেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বক্তৃতায় তিনি বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সংযত ব্যবহার, সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলা এবং অতিরিক্ত শাসন বা অতিরিক্ত আদরের পরিবর্তে ভালোবাসা ও শৃঙ্খলার সুষম সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি পরিবারে নিয়মিত প্রার্থনা, জপ, মহাপুরুষদের জীবনচর্চা এবং নৈতিক শিক্ষার অনুশীলন শিশুর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সন্তানকে শুধু সফল নয়, একজন মহৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।” স্বামী বিবেকানন্দের বাণী উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “তোমরা প্রথমে মানুষ হও; তারপর অন্য সব” এবং “এক আউন্স কাজ বিশ হাজার টন কথার সমান।” অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা সন্তান প্রতিপালন, চরিত্র গঠন, প্রযুক্তির প্রভাব এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। স্বামী অমর্ত্যানন্দজী মহারাজ যুক্তিনিষ্ঠ ও বাস্তবধর্মী উত্তর প্রদান করলে উপস্থিত সকলেই তা প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেন।
সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী অভিভাবকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মূল্যবোধভিত্তিক অভিভাবক সম্মেলনের নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।
























