পাটনা, ২৭ জুন (আইএএনএস): জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ ও খান গ্লোবাল স্টাডিজের ডিরেক্টর ফয়সাল খান (খান স্যার)-এর আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছে পাটনা সিভিল কোর্ট। শনিবার আদালত জানিয়েছে, পুলিশের জমা দেওয়া হালনাগাদ কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত খান স্যারের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল থাকবে।
শনিবারের শুনানিতে কদমকুয়াঁ থানার পুলিশ আদালতে হালনাগাদ কেস ডায়েরি জমা দেয়। আদালত তা পর্যালোচনার জন্য তিন দিনের সময় মঞ্জুর করে এবং চূড়ান্ত শুনানির দিন ৩০ জুন ধার্য করে।
খান স্যারের আইনজীবী অরবিন্দ কুমার মৌর শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করে বলেন, সরকারি পক্ষ ইতিমধ্যেই হালনাগাদ কেস ডায়েরি পেয়েছে, ফলে এদিনই শুনানি শেষ করা সম্ভব ছিল।
অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলি এবং রোশন আনন্দের পক্ষে আইনজীবী কেস ডায়েরির বিষয়বস্তু ও আইনি দিক খতিয়ে দেখার জন্য আরও সময় চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানি মুলতবি রাখে।
আগামী ৩০ জুন খান স্যারের দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর জামিনের আবেদনও শুনবে আদালত। গুলিচালনার ঘটনায় তাঁরা বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশের জমা দেওয়া কেস ডায়েরি অনুযায়ী, তদন্তকারীদের দাবি, ২ জুনের গুলিচালনার ঘটনা আত্মরক্ষার্থে ছিল না; বরং আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন ফয়সাল খানের নামও এফআইআরে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২ জুন খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে হিংসার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছিল, কোচিং সেন্টারের এক নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। খান স্যার অভিযোগ করেছিলেন, জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রোশন আনন্দ-সহ কয়েকজন এই হামলার জন্য দায়ী।
তবে পুলিশের দাবি, তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজে বাইরে থেকে গুলিচালনার অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ মেলেনি। বরং পরবর্তী ফুটেজে দেখা যায়, খান স্যারের দুই নিরাপত্তারক্ষী আকাশের দিকে গুলি ছুড়ছেন। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, এই ঘটনায় খান স্যারকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং গুলিচালনার ঘটনায় তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। অন্যদিকে, পুলিশ কেস ডায়েরিতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের পক্ষে সওয়াল করছে।
সূত্র: আইএএনএস



















