সাব্রুম, ২৬ জুন: দক্ষিণ ত্রিপুরার পোয়াংবাড়ি আরডি ব্লকের অন্তর্গত মাধবনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের বেহাল পরিকাঠামো ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি কার্যত অবহেলার শিকার হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত চলছে। অভিযোগ, একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই গরু ও ছাগল বেঁধে রাখছেন। এর ফলে শ্রেণিকক্ষ নোংরা হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের শৌচাগারগুলির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেগুলি কার্যত ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সীমানাপ্রাচীরের অভাবেই বহিরাগতরা বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে নোংরা করছেন। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি জানান।
সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে বর্ষাকালে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, ফলে পাঠদান ব্যাহত হয় এবং ছাত্রছাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। বিদ্যালয়ের পানীয় জলের ট্যাঙ্কও দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় তা নোংরা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ, ওই ট্যাঙ্কের জলই ছাত্রছাত্রীদের পান করতে হচ্ছে এবং মিড-ডে মিলের রান্নার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষের দরজাও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে, যা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে।
একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ অব্যাহত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে শিক্ষা দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিদ্যালয়টির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।



















