ঢাকা/বেইজিং, ২৬ জুন (আইএএনএস): চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সংযোগ ব্যবস্থা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতীকুর রহমান রুমন জানান, শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
বৈঠকের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানায়, উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার রাতে মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
জানা গেছে, এই সফরে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান এবং পৃথকভাবে মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) প্রযুক্তি ক্রয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডরের নিকটে উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে।
এদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে এই ধরনের প্রতিরক্ষা ক্রয় সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, এই সফর তারই প্রতিফলন। চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রচেষ্টা এই সফরে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।



















