নয়াদিল্লি, ২৪ জুন (আইএএনএস): জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যদ আরশাদ মাদানি-র “জিহাদ প্রত্যেক মুসলিমের অধিকার” মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বুধবার বিজেপির একাধিক নেতা তাঁর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং মুসলিম সমাজের একাংশকে উসকে দেওয়ার জন্যই করা হয়।
বিজেপি নেতা রোহন গুপ্ত আইএএনএস-কে বলেন, “মাওলানা মাদানি প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর এমন কোনও না কোনও মন্তব্য করেন, যার মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনীতি এগিয়ে নিতে চান এবং মুসলিম সমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এখন মুসলিম সমাজ এই ধরনের বক্তব্যের গুরুত্ব কমই দেয়। কখনও তিনি জিহাদের কথা বলেন, কখনও অন্য ইস্যু তোলেন, অথচ ভারতের মুসলিমরা সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত অধিকারই পাচ্ছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, “উসকানিমূলক রাজনীতি এবং তুষ্টিকরণের রাজনীতি এখন আর সফল হচ্ছে না।”
বিজেপি সাংসদ ভোলা সিং বলেন, “এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। সমাজের যুবকদের সঠিক পথ দেখানোর বদলে যদি ধর্মীয় নেতারা উসকানিমূলক কথা বলেন, তা নিন্দনীয়। সমাজকে বিভ্রান্ত করার বদলে ইতিবাচক দিশা দেখানো উচিত।”
উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায় বলেন, “এটি একটি সংকীর্ণ মানসিকতার প্রতিফলন, যেখানে দেশের চেয়ে ধর্মকে বড় করে দেখা হচ্ছে। যদি আরশাদ মাদানি ধর্মকে দেশের ঊর্ধ্বে মনে করেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা।”
প্রবীণ বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি বলেন, “কিছু মানুষ জিহাদের নামে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন এবং এক ধরনের উগ্রপন্থী প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। কিন্তু তাঁদের এই এজেন্ডা বারবার সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসলিম পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করছেন।”
উত্তরপ্রদেশের আরেক মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “ঘৃণা ছড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের দিকে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিভাজনমূলক বক্তব্য সমাজের ক্ষতি করে এবং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।”
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের পিরান কালিয়ার এলাকায় জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, “১৮০৩ সালে দেশ যখন দাসত্বে আবদ্ধ ছিল, তখন দেশের স্বাধীনতার জন্য জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছিল। দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙতে জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। এটি মাদ্রাসা থেকে পাওয়া শিক্ষা, আর যে এটি জানে না, সে অজ্ঞ।”
এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
— আইএএনএস



















