আগরতলা, ২৪ জুন: আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি) ও জিবি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার উপর রাজ্য সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিধায়ক । বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
বিধায়ক বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দিলেই স্বাস্থ্য পরিষেবার মান বৃদ্ধি পাবে বা রোগীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন— এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।
তার বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও ফ্যাকাল্টিরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করার পর অবশিষ্ট সময়ে কী করবেন, সে বিষয়েও সরকারকে ভাবতে হবে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি হাসপাতালেই পেইড ক্লিনিক বা বিশেষ চেম্বারের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে সামর্থ্যবান রোগীরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারেন। ত্রিপুরাতেও এমন ব্যবস্থা চালু করা যেত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মন প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র জিবি হাসপাতাল ও এজিএমসির চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই কেন এই নিয়ম কার্যকর করা হলো। যদি এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে , কিংবা জেলা হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য করা হয়নি কেন— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে সরকারের আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। তার অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যান্সার হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মেশিন দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, অথচ সেগুলি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এছাড়াও সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের নামে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিষয়গুলোর উপর কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। চিকিৎসকরা যাতে কর্মঘণ্টায় কোনো গাফিলতি না করেন এবং রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য না করেন, সেদিকে প্রশাসনের কড়া নজর থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিধায়কের আশঙ্কা, সরকারের এই সিদ্ধান্তে রোগীদের প্রত্যক্ষ কোনো উপকার হবে না। বরং চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা কিংবা অন্য রাজ্যে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন এমন অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে পারেন। এতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও চাপে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টির ঘাটতি রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে মেডিকেল শিক্ষার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চিকিৎসা শিক্ষা ও রোগী পরিষেবা— উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবশেষে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
























